![]()
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটায় গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় ট্রলারে বজ্রপাতে নিহত জেলে আল-আমিনের পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহত আল-আমিন (৩০) পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই শিশু পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রলার মালিক আলমগীরের চিংড়ি মাছ ধরার ট্রলারটি সুন্দরবনের কটকা এলাকায়, পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থানকালে হঠাৎ বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। এ সময় আল-আমিন ট্রলারের পাশে অবস্থান করছিলেন। বজ্রাঘাতে তিনি নদীতে পড়ে যান। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ট্রলারের মাঝি জাহাঙ্গীর (৪০), শাহাদাত (৪৫), ইউনুস (৫৫) ও সুমন (৩৩) আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজও নেয়নি।”
এলাকাবাসী জানান, আল-আমিন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন জেলে। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ছগির আলম বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আল-আমিন নিহত হয়েছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানানো হলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনামুল হক বলেন, বজ্রপাতে এক জেলে নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে নিহত আল-আমিনের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও গভীর সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



মন্তব্য