![]()
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার আশুলিয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তর এর একটি সফল বিশেষ অভিযানে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আশুলিয়ার বুড়ির পাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি উত্তর এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম। এসময় এসআই সুজিত কুমার মৃধাসহ একটি দক্ষ আভিযানিক টিম অংশ নেয় এবং পরিকল্পিতভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ হাজার ২০০ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—আশুলিয়ার বুড়ির পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন (৪৫) এবং কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বাসিন্দা মো. মাহাবুর রহমান (৩৫)। তবে মাহাবুর রহমান বর্তমানে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি মাদক মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদক পরিস্থিতি: উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ইয়াবা, হেরোইন ও ইনজেকশনভিত্তিক মাদক উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে, যা একটি সুসংগঠিত মাদক চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। যদিও ৭৪ পিস ইয়াবা সংখ্যায় তুলনামূলক কম, তবে এটি মূলত খুচরা পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ছোট চালানগুলোই স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একজন ডিলারের মাধ্যমে একাধিক খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছে এসব মাদক খুব দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় বিস্তার লাভ করে।
স্থানীয় ও ভাড়াটিয়া—উভয়ের সম্পৃক্ততা:
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া উভয় শ্রেণির ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আশুলিয়া এখন মাদক ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন জোনে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যক্তিরাও যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।
বহুমাত্রিক মাদক বিস্তার কৌশল:
সাম্প্রতিক সময়ের হেরোইন, ইনজেকশন এবং ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাগুলো একত্রে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, মাদক চক্র একাধিক ধরনের মাদক ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের কার্যক্রম, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রতিরোধে করণীয়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু বড় চালান ধরাই যথেষ্ট নয়, বরং খুচরা পর্যায়ের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা জরুরি। পাশাপাশি—
ভাড়াটিয়া যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মাদক বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও, এর স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে পুরো মাদক নেটওয়ার্ক ধ্বংসের ওপর—শুধু খুচরা পর্যায়ের গ্রেফতার নয়, বরং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি।



মন্তব্য