![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ফেরত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নূর ইসলাম মুন্নু মোল্লা। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ-পুলিশ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন, থ্রি-হুইলার সমিতিসহ ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা, যাত্রীদের সুবিধার্থে ঘাট ও সড়ক পরিষ্কার রাখা, লুজ কালেকশনে বাড়তি টাকা না নেওয়া এবং পরিবহন কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং ঈদকে কেন্দ্র করে অপরাধীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফেরিতে ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকায় নৌ-পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১১টি বড় ও ৫টি ছোট ফেরিসহ মোট ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১৩টি লঞ্চসহ মোট ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে দিনে স্পিডবোট চলাচলের ক্ষেত্রে লাইফজ্যাকেট নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল নৌযানে শতভাগ লাইফজ্যাকেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় সড়ক ও নৌযানের ছাদে কোনো অবস্থাতেই যাত্রী বহন না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা নৌঘাট, নৌ-টার্মিনাল, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের কাউন্টারে দৃশ্যমানভাবে টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে ঈদের আগে ও পরে ৬ দিন অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক নদী পারাপার বন্ধ থাকবে। এছাড়া দৌলতদিয়ায় বালুর চাতাল ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ সময় নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলও বন্ধ থাকবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম ঘাট সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঘরে ফেরা মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং ঘাটে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, এ বছর দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী ঘরমুখো মানুষ যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।



মন্তব্য