মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 

জগন্নাথ থেকেই ভিসি-ট্রেজারার নিয়োগ চায় জবি শিক্ষক সমিতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

---

আশিকুর রহমান, জবি প্রতিনিধি, 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ট্রেজারার যদি সরকারের নীতিগত কারণে পরিবর্তিত হন তবে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিগণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে বলে দাবী জানান জবি শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর বারোটায় জবি শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রায় এক মাসব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার মূল দাবি ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলস্বরূপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।

 তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল শুরু হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়- যদি প্রশাসনের উচ্চপদে রদবদল হয়, তবে পূর্বের ন্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ দিতে হবে।

 জবি থেকে উপাচার্য নিয়োগের পিছনে যৌক্তিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রথমত, একজন উপাচার্য ও ট্রেজারারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং সরকারের কাছে প্রতিশ্রুত আবাসন বৃত্তির অর্থ আনয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। দ্বিতীয়ত, বাজেট বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্কে অবগত নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 পরিশেষে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আর কারো “কলোনি” হবে না। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সুস্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ট্রেজারার যদি সরকারের নীতিগত কারণে পরিবর্তিত হন, তবে অবশ্যই তাঁদের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিগণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বাহিরের কোনো উপাচার্য বা ট্রেজারার মেনে নেবে না।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon