![]()
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ( জাবি) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিবর্তন সংসদ ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কর্তৃক বইমেলা ও কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করা হয়।
শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়াতলায় সকাল সাড়ে দশটায় এই প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়।
উক্ত প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম,সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, গনিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম,চারুকলা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলম ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা লাকিসহ প্রমুখ।
এই সময়ে মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম বলেন,” জন্মের পর থেকে আমরা যে মাধ্যমে আমাদের আবেগ প্রকাশ করি,সেটাই হচ্ছে মায়ের ভাষা। মা, মাটি ও মানুষ প্রত্যেকটি জিনিস ই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার মনে ভাব যেভাবে প্রকাশ করি, আমি মনে করি সেটিই হচ্ছে আমার মায়ের ভাষা বা মাতৃভাষা। পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য একমাত্র বাংলাদেশি মানুষরাই জীবন দিয়েছে। পাকিস্তানিরা যখন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ১৯৫২ সালে বাংলাদেশের মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী ও প্রান্তিক যেসব মানুষ আছে, তাদেরও নিজস্ব ভাষা আছে,, প্রত্যেকটি ভাষাই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনা করার ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘে বাংলা ভাষার ব্যবহার হয়। যেহেতু জাতিসংঘে আমাদের বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে,সেহেতু আমাদের দেশের সকল সেক্টরে বাংলা ভাষার ব্যবহার করা উচিত।”
বিবর্তন সংসদের সাধারন সম্পাদক মনিষা হক বলেন,”শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমরা দুইদিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন এবং আলোচনা পর্বের পর আমরা বইমেলার উদ্বোধন করছি। এছাড়া বিকাল তিনটা থেকে কবিতা পাঠের আসর,পুতুল নাচ ও কালচারাল সেগমেন্ট হবে।
তিনি আরো বলেন, এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যে হচ্ছে শহিদদের স্মরন করা আর মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই। মাতৃভাষা বলতে শুধু বাঙালীদের ভাষা না,সেই সাথে আদিবাসীদের মাতৃভাষাও গুরুত্ব দিচ্ছি। আদিবাসীদের ভাষা সেভাবে চর্চা হচ্ছে না দেখে,দিন দিন সেই ভাষাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষ মাতৃভাষা সম্পর্কে জানুক ও সচেতন হোক।”



মন্তব্য