বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
 

গবাদিপশুর এলএসডি রোগের চিকিৎসা নির্দেশনা ডিএলএস’র কাছে হস্তান্তর করলো বাকৃবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

---

বাকৃবি প্রতিনিধি:

গবাদিপশুর জন্য লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) মারাত্মক সংক্রামক একটি রোগ। ভাইরাসজনিত রোগটি ছোঁয়াচে প্রকৃতির,  খুব দ্রুত এটি এক পশু থেকে অন্যপশুতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত গরুদের জ্বর হয়, শরীর ফুলে ওঠে, ত্বকে গুটি দেখা দেয়, মুখ দিয়ে লালা ঝরে এবং ধীরে ধীরে পশুটি দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পশুর মৃত্যু ঘটে।

 

এলএসডি রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে প্রণীত পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নির্দেশনামূলক বই প্রস্তুত  করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগ।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় রাজধানীর খামারবাড়িতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন হ্যান্ডওভার সিরেমনি’ অনুষ্ঠানে বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) কাছে হস্তান্তর করেছেন প্যাথলজি বিভাগের গবেষকরা।

 

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আর্থিক সহায়তায় এবং ‘ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরমুলেশনস কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ চিকিৎসা নির্দেশনামূলক বইটি প্রস্তুত করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও বাকৃবির প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ, পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (এল আর) ও পিএইচডি শিক্ষার্থী ডা. ইসরাত জেরিন।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন প্রকল্পের লক্ষ্য, অর্জন এবং প্রকল্পের আওতায় প্রণীত চিকিৎসা নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুর কার্যকর চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রণীত নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে প্রাণি চিকিৎসকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।’

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর প্রধান অতিথির সভাপতিত্বে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রাণি চিকিৎসকরা তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘দেশে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এলএসডি রোগটি বিদ্যমান এবং সময়ের সঙ্গে এর ধরণের পরিবর্তনের ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে। এলআরআই টিকা উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তবে চিকিৎসা নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূরণ হলো।’

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon