শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
 

কাউখালীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫

 

 ---

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালীতে জোলাগীতি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার  অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধভাবে আয়া নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করেছেন। আর অভিযোগ ভুক্তভোগী আয়া প্রার্থী মিনারার স্বামী মোঃ সামসুল হুদা (ওদুদ)। তিনি অভিযোগে লিখেছেন জোলাগাতী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় একজন আয়া নিয়োগের জন্য ২৭মে২০২৫ ইং তারিখ দৈনিক সংগ্রাম ও পিরোজপুর কণ্ঠ পত্রিকায়  নিয়োগ  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে আমার  স্ত্রী  অধ্যক্ষের বরাবরে আবেদন করেন। আবেদন পেয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহিম মিনার স্বামী  হিসেবে আমাকে তার সাথে দেখা করার জন্য তার কাউখালী বাসায় ডাকেন এবং   ৪ লক্ষ টাকা দিলে আমার স্ত্রীকে চাকুরি দিবেন বলে প্রস্তাব করেন।টাকা  দিলে প্রশ্নপত্র আগে দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার বিষয়  নিশ্চিত করে নিয়োগ দিবেন।  তার কথায় রাজি হয়ে ২১ শে আগস্ট পরীক্ষার আগের দিন রাতে অধ্যক্ষ তার চাহিদা মতো টাকা নিয়ে তার কাউখালীর বাসায় ডাকেন। এ সময় আমি আর্থিক সমস্যার কারণে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করলে তিনি আমাকে জানান যে এর দ্বিগুণ টাকা অন্য প্রার্থীরা দিতে চায়। তবে তোমার দাদার ভিটায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত  বাড়ির মানুষ হিসেবে তোমার  স্ত্রীর  জন্য ৪ লাখ চেয়েছি। তুমি আরো ১ লক্ষ টাকা দাও। আমার কাছে টাকা নাই পরে দিব বলে জানাই। পরে তিনি তিন লাখ টাকা গ্রহণ করে  আমাকে প্রশ্নপত্র না দিয়ে কিছু প্রশ্ন মৌখিক ভাবে বলে দেন। ২২ শে আগস্ট শুক্রবার পরীক্ষায় ৪জন অংশগ্রহণ করলেও তার বলে দেওয়া  প্রশ্নের সাথে কোন মিল ছিল না। এছাড়া এদের মধ্য থেকে সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তির  মেয়েকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। অথচ সোহরাব হোসেনের মেয়ের পাশে জোলাগাতী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বি.এ অনার্স পড়ুয়া একজনকে প্রার্থী সাজিয়ে সোহরাবের মেয়ের পাশে বসতে দেয়। মূলত: সোহরাবের মেয়ের খাতায় ঐ মেয়ের নাম লেখেন এবং ঐ মেয়ের খাতায় সোহরাবের মেয়ের নাম লিখে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মোটা অংকের বিনিময়ে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে আমার কাছ থেকে টাকা নিলেও  তার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় বাড়তি টাকা নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। অভিযোগপথে এভাবেই লিখেছেন অভিযোগকারী। উল্লেখ্য এর পূর্বে ৩টি নিয়োগ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

অভিযোগকারী  এই নিয়োগ বাতিল করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেন জানিয়েছেন মিনারা স্বামী মোঃ সামসুল হুদা (ওসুদ)।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য কোন ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন হয়নাই। তবে  বাড়ির একজনকে আমাদের পছন্দ ছিল।  পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাকে নিয়োগ দিতে পারি নাই। ওই মাদ্রাসার সভাপতি জামাত নেতা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করেছেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon