সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
 

কাউখালীতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত চরম ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫

---

এনামুল হক,  কাউখালী (পিরোজপুর)  প্রতিনিধি।

 ‎ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে   পিরোজপুরের কাউখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত  হয়েছে।  অস্বাভাবিক  পানির চাপে উপজেলার বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী  নিম্ন অঞ্চলের  মাটির কাঁচা পাকা রাস্তা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে।বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী আবাসন গুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি শহরে বিভিন্ন পুরাতন রাস্তা ও নিচু  এলাকায়   সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে  কেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক চলাফেরা হুমকির মুখে পড়েছে। দৈনিক মজুরিতে শ্রম বিক্রি করা মানুষেরা অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানির ফলে  কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছে বাড়িতে। দিনমজুর শাজাহান মিয়া, মন্টু মিয়া, রাসেল সহ অনেকেই জানিয়েছেন উত্তর বাজার ব্রিজের উপরে সকাল সাতটায় শ্রম বিক্রি করার জন্য কাজ করা মানুষগুলো এসে দাঁড়ায়। আর বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকের জন্য আসা লোকজন  ৭/৮ শত  টাকার বিনিময়ে ছয় থেকে সাত ঘন্টা কাজের জন্য তাদেরকে নিয়ে নেয়। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত বর্ষার ফলে দুই তিন দিন পর্যন্ত কেউ শ্রমিক  নেয় না। ফলে তারা বেকার হয়ে হাট-বাজারে চাউল, ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল  কিনতে না পেরে খালি হাতে বাড়িতে যেতে  হয়। যার ফলে পরিবারের লোকজন স্বাভাবিক খাবারটুকুও খেতে পারে না। এভাবে আরও বৃষ্টি ও পানি বাড়লে অনাহারেই থাকতে হবে বলে তারা আকাঙ্ক্ষা করছেন । এমনকি

উপজেলা সদরে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সহজে পানি নামতে পারছে না । এতে জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। উপজেলা শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাজী হারুন অর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের অংশ, সহ মানিক মিয়া কিংডার গার্ডেন এর আশপাশের এলাকা ও আশ্রমগেট সামনের রাস্তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়  জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।

এই সমস্ত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এমনকি আশপাশের বসবাস করা সাধারণ মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার  সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার শাপলেজা, জোলাগাতি, ফলইবুনিয়া, বেকুটিয়া সুবিদপুর, আমরাজুরি, মেঘ পাল, সয়না রঘুনাথপুর এই সমস্ত এলাকার নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়ে  রাস্তাঘাট ও বাড়িগুলো  ডুবে গেছে।

অতিরিক্ত বর্ষা ও জোয়ারের পানির চাপে  কাঁচা মাটির রাস্তা গুলো  ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।

‎ উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ফলই বুনিয়া গ্রামের সাইদুল আলম   বলেন, কঁচা ও সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় হাজারো পরিবারের বসবাস। সাগরে নিম্নচাপ হলেই এ এলাকার মানুষের চিন্তা বাড়ে। রাত থেকে শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে আশপাশ তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানি উঠলে বিপদ বেড়ে যায়। রাতের জোয়ারে অনেক পানি উঠেছে , আমরা আতঙ্কের ভিতর আছি ।

‎সদর ইউনিয়নের  আবুল হোসেন বলেন,আমরা আবাসনে থাকি অতিরিক্ত পানির ফলে গাড়ি চলাচল দূরের কথা নিজেরাই স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারি না । পশ্চিম ফলইবুনিয়া  গ্রামের সোলায়মান বলেন  আমাদের বাড়ির সামনের একটি মাদ্রাসার পাকা ঘরের নিচ পানির চাপে মাটি শূন্য হয়ে পড়েছে যেকোনো সময় ঘরটি অস্তিত্ব হারাতে পারে । এছাড়া রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাপলেজা, জোলাগাতী গ্রামের অনেকেই এখন আর ঘর থেকে বাইরে যেতে পারে না। নতুন নতুন মাটির রাস্তা গুলো পানির চাপে বিলীন হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা বলেন,  দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় আগাম জিয়ার চাউল বিতরণ করা হয়েছে  আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

 

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon