![]()
মোঃ মিনহাজ আলোম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তর আম গাছ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে । গাছটিতে প্রতি বছর আম হয় প্রায় ৫০-৬০ মন । আমের সিজিনে এই বৃহত গাছটি দেকতে প্রতিদিন সেখানে ভির করে হাজারো মানুষ। এ বছরেও প্রায় ৫০ মোন আম হবে এমনটি আসা করেছে গাছ মালিক।
প্রায় দুই বিঘা জমি নিয়ে অবস্থিত বিশাল এই আম গাছটির অবস্থান জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী সীমান্তের মন্ডুমালা গ্রামে।
গাছটি শুধু জেলায় নয় পুরো দেশে এক ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাছটি এক জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে দেখা অসম্ভব। গাছের মূল থেকে ডালপালাকে আলাদা করে দেখতে চাইলে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যেতে হয়। বিশালাকৃতির এই গাছটিকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমগাছ হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আর এই গাছটি দেখতে প্রতিনিয়তই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় করেন।
অসংখ্য ইতিহাসের নজির বিহীন ঐতিহাসিক যুগের প্রচীন এই লতা সূর্যপুরী আম গাছটি । ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছটি ডাল পালা দেখলে মনে হবে যেনো বট গাছ না হয় আক্টপাস। আসলে এটি বট গাছ এবং অক্টপাস কোনোটিই নয় , এটি আম গাছ। গাছটির ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ডাল পালা মুগ্ধ করে দর্শনার্থিদের ।তবে তাদের আরোও আকৃষ্ট করেছে গাছটিতে ঝুলতে থাকা থোকায় থোকায় লতা সূর্যপুরী আম। প্রাচিনতম এই গাছটি কত বছর পুরোনা তা সঠিক কেউই বলতে পারছে না । অনেকেরি ধারনা গাছটি ২০০ বছর পুরনো । বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন গাছটি ২২০ বছর পুরনো বা তারো বেশি। গাছটি বর্তমান মালিকের বাবার দাদার হাতের লাগানো গাছ। মজার বিশষ হলো প্রতি বছর গাছটি থেকে প্রায় ৫০-৬০ মন আম পারা হয়। যেটি অবাক করে সকল কেই।
জানা যায়, গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ ফুট, এর পরিধি প্রায় ৩৫ ফুট। মূল গাছের তিন দিকে অক্টোপাসের মতো মাটি আঁকড়ে ধরেছে ১৯টি মোটা মোটা ডালপালা। বয়সের ভারে গাছের ডাল হেলে পড়লেও গাছটির শীর্ষভাগে সবুজের সমারোহ। এখন আমের সময় সবুজ আমে ভরপুর এই গাছটি। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২৫০ গ্রাম থেকে ২৭০ গ্রাম পর্যন্ত । এবারও গাছটিতে ব্যাপক পরিমাণে আম ধরেছে। প্রকৃতির আপন খেয়ালে ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁয়ের এই আমগাছটি।
গাছ দেকতে আসা মোনোয়ার হোসেন বলেন , গাছটি এতো সুন্দর ভাবে বিসতৃ্ত হয়েছে যা দেখলে পরান জুরিয়ে যায়। ছুটির দিন তাই ঘুরতে আসলাম এই আম গাছটি দেকতে। এই জাইগাটা যদি সরকারি উদ্দেগে পর্যটন কেন্দ্র করা যায় তাহলে আরো দর্শনার্থি বারবে বলে আমি মনে করি।
আর এক মহিলা দর্শনার্থি জানান, আমি এখানে এই প্রথম আসছি ,দেখে খুবি ভালো লাগলো। থোকায় থোকায় আম ঝুলছে দেকতে খুবি ভালো লাগছে।
পঞ্চগর থেকে আসা এক পরিবার জানান, থোকায় থোকায় আম দেকছি ভালো লাগছে। এর আগে এতো বড় আমগাছ ও থোকায় থোকায় এতো আম দেখিনি।
উত্তরাধিকার সূত্রে বালিয়াডাঙ্গী লতা সূর্যপূরী আমগাছটির বর্তমান মালিক নূর ইসলাম। নুর ইসলামের বাবার দাদা গাছটি লাগিয়েছিলেন। নুর ইসলাম বলেন, গাছটি দেখতে দূর দুরান্ত থেকে অনেক লোক আসে, আমরা নিজের আর্থায়নে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গরে তুলার চেষ্টা করছি। সরকারের পক্ষথেকে যদি কনো সহযোগিতা পাই তাহলে এটিকে আরো উন্নত করতে পারবো। এ বছর গাছটিতে প্রায় ৩০-৪০ মোন আম হবে ।আমরা আশাবাদি এ বছর এক থেকে দের লাখ টাকার আম বিক্রী করতে পারবো ।
প্রতি বছর গাছটিতে প্রচুর আম হয়। ৮২ শতক জমিজুড়ে এটি বিস্তৃত। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক এসে ভিড় করে। গত বছর প্রায় ৪০ মণেরও বেশি আম বিক্রি করা হয়েছিল। এবারও প্রচুর আম ধরেছে, আশা করি এবার ৪০ থেকে ৫০ মণের বেশি আম হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুব আলম বলেন, এই গাছটি শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব না এই গাছটি সারাদেশের গর্ব। পর্যটকদের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছি। গিনেস বুকে ইতোমধ্যে আমরা আবেদন করেছি। গিনেস বুকে নাম লেখানো যায় কিনা সেজন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।



মন্তব্য