![]()
রুমান শাহরিয়ার, জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
জামালপুর সদর উপজোলার মেষ্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ী এলাকায় গর্ভপাত করতে রাজী না হওয়ায় তাহমিনা জান্নাত(২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাশুড়ী সহ ০৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার ভোর রাতে তাহমিনার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন চেষ্টা চালায়। এতে তাহমিনা বাঁধা দিলে তাকে প্রথমে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় শশুর বাড়ীর লোকজন । পরে তাহমিনার অবস্থা গুরুত্বর খারাপ হলে উজ্জ্বল ও তার পরিবারের লোকজন সকালে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহমিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল গেট থেকেই তাহমিনার শাশুড়ী উষা,নানী শাশুড়ী আকলিমা ও দেবর শরীফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহত তাহমিনা জান্নাত মাদারগঞ্জ উপজেলার জোরখালী ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে।
এঘটনায় নিহতের বাবা জানান, চলতি বছরের ০২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের দেওলিয়াবাড়ী গ্রামের মজনু ওরফে মুমু মিয়ার ছেলে আনসার সদস্য উজ্জল মাহমুদের সাথে বিয়ে হয় তার মেয়ে তাহমিনা জান্নাতের। বিয়েতে উজ্জ্বল মাহমুদকে নগদ ৬ লাখ টাকা, ১ লাখ মূল্যের গয়না ও ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন তিনি। এরপরও মাঝে মাঝে যৌতুকের টাকার জন্য তাহমিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করতো উজ্জ্বল মাহমুদ ও তার পরিবার। এরই মধ্যে গর্ভবতী হয় নিহত তাহমিনা।
নিহতের বাবা আরও অভিযোগ করে বলেন,“গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে আমার মেয়ের উপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেয় উজ্জলের পরিবার। মঙ্গলবার রাতে ঈদের ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসে উজ্জল। বাড়িতে এসেই গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে উজ্জল ও তার পরিবার। এই কাজে রাজি না হলে রাতে ঘরের দড়জা-জানালা বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করে উজ্জল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এবিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের শাশুড়ীসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য