বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
 

ক্ষতিগ্রস্তদের কাগজপত্র নকল করে সিসিডিবি থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬

---

গাজীপুর সংবাদদাতা

ঢাকা-বাইপাস, জয়দেবপুর, দেবগ্রাম, ভুলতা, মদনপুর সড়কে, ঢাকা-বাইপাস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। প্রকল্পের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তার চেক বিতরণ সওজ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। সাপোর্ট টু জয়দেবপুর, দেবগ্রাম, ভুলতা, মদনপুর, সড়ক (ঢাকা-বাইপাস) পিপিপি প্রকল্প’-এর পূর্ণবাসন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সওজ এবং এর বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে এনজিও সিসিডিবি (CCDB) সম্প্রতি নিয়ম লঙ্ঘন করে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার মাধ্যমে এই প্রকল্পের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

প্রকল্প এলাকায় নির্দিষ্ট নীতিমালা না মেনে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও স্বজনপোষণের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণবাসনের চেক বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হলো, মহাসড়ক প্রকল্পের পুনর্বাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া।
গাজীপুরে ঢাকা বাইপাস মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও, এনজিওটি ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অর্থ প্রদান করেনি।  এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির বিরুদ্ধেও পদ্ধতিগত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আড়ালে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারি প্রকল্প থেকে আত্মসা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। অফিস কর্মকর্তা সোজাউল ও দালাল চক্র জহির, মোস্তফা, মইনুল, মোহাম্মদ আলী এই চক্রগুলো যেভাবে কৌশলে সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে এনআইডি কার্ড, ছবি, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুর বাইপাস থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় হাজার হাজার দোকান রয়েছে। আট বছর আগে পোল্যান্ডের রাস্তার কাজ হওয়ায়, রাস্তার দুই পাশে দোকানগুলো ভাঙ্গা পড়ে। সরকারি ভাবে কিছু পাওয়ার আশায় তাদের কাগজপত্র গুলো জমা নেয়। তার থেকেও বেশি যারা দোকান দেননি। তাদের কাগজপত্রও নিয়ে জমা রাখে।
গাজীপুর বাইপাস থেকে মদনপুর পর্যন্ত দালাল চক্র অন্তত ২০ জন বলে অভিযোগ উঠেছে। দালালদের কাজ হলো কাগজপত্র সংগ্রহ করা। কাগজপত্র সংগ্রহ করে কর্মকর্তা সোজাউলের কাছে নিয়ে গেলে, সোজাউল একটি ফাইল তৈরি করে। চলতে থাকে আট বছর যাবত সোজাউল ও দালাল চক্র জহির, মোস্তফা, মইনুল, মোহাম্মদ আলী ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে টাকা চাওয়া।

নাম না বলার অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে আমাদেরকে ৩ লাখ ৮০ থেকে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে, আমাদের কাগজপত্র নিয়ে যায় দালাল, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দালাল ধাপে ধাপে টাকা চায় এবং কর্মকর্তা সোজাউল ও টাকা চায়। আমাদের কাগজপত্র দিয়ে সরকারি প্রকল্প থেকে আমাদের নামে বিল পাস করে। কর্মকর্তা ও দালাল চক্র মিলে ছয় নয় দেখিয়ে আমাদেরকে দেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
অভিযোগকারী আরো অভিযোগ করেন, কর্মকর্তা সোজাউল ও দালাল চক্র জহির, মোস্তফা, মইনুল, মোহাম্মদ আলী মিলে একজনের নামের টাকা অন্য আরেক জনের নামে তুলে তারা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। অভিযোগকারী আরও জানান, অফিস থেকে এই চেক আনতে গেলে দেখানো হয় বিভিন্ন ইস্যু, চেক ভাঙ্গানোর পরপরই শুরু হয় বাক বাটোয়া ২৫-৩০ হাজার টাকা ঘোষ বাবদ দিয়ে আসতে হয় কর্মকর্তা ও দালাল চক্রকে।
ভুক্তভোগীরা তাদের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, কর্মকর্তা সোজাউল ও দালাল চক্র জহির, মোস্তফা, মইনুল, মোহাম্মদ আলী মিলে যোগ সাজছে গরিবদের টাকা মেরে এক এক জন ৮ থেকে ১০ টা বাড়ী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরো জানা যায়, পূর্বের অফিস গাজীপুর সড়ক ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ৫ ই আগস্ট এর পর অফিস নিয়ে যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন পৌরসভার অন্তর্গত নলপাথর এলাকায়। নির্জন স্থানে ভিতরে সিটকির দিয়ে দরজা বন্ধ রেখে ফ্ল্যাটে ৩ তলায় এই কার্যক্রম পরিচালনা হয়।
দালালদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমরা এসব ব্যাপারে কিছু জানি না। সবকিছু সোজাউল ভাই জানে, তার সাথে কথা বলতে পারেন। তবে সব দালাল চক্র স্বীকার করে বলেন, সবাই সবাইকে চিনি সোজাউল ভাইকেও চিনি। আরেক জনের সাথে কথা বলে জানতে পারি, আমরা কাগজপত্র বাবদ যা যা কিছু করার সবকিছু করে দিই। চেক পাওয়ার পর আমাদেরকে খুশি হয়ে তারা ৫-৭ হাজার টাকা মিষ্টি খেতে দেয়। সোজাউল ভাইয়ের সাথে মাঝেমধ্যে দেখা করি এবং বসে চা খাই। তবে এসব ব্যাপারে কোন কথা কই না।

সোজাউল এর সাথে কথা বলে জানা যায়, আমার নামে যেসব অভিযোগ সব ভিত্তিহীন। আমরা জনগণকে কাগজপত্র থেকে শুরু করে টাকা পাওয়া পর্যন্ত হেল্প করি। আমি দীর্ঘ অনেক বছর ঢাকা টাঙ্গাইল রোডে ছিলাম। গাজীপুর বাইপাস মদনপুর আসছি যে পাঁচ বছর চলতেছে। দালাল চক্র জহির, মোস্তফা, মইনুল, মোহাম্মদ আলী এদেরকে চিনেন কী, জবাবে হ্যাঁ চিনি ওদের সাথে মাঝেমধ্যে দেখা হয়, একসাথে বসে চা খাই। তবে দুর্নীতির বিষয়টা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট বলে মোবাইল ফোন কেটে দেয়।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রশাসক ইভান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি মাথায় রেখে, আমি সোজাউল এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon