![]()
গাজীপুর সংবাদদাতা
গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন ও অনুমোদনহীন হাসপাতাল এবং ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ত্রুটিপূর্ণ ল্যাব এবং অন্যের ডিগ্রি ব্যবহারকারী ভুয়া চিকিৎসকদের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে। ইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি, নিয়মিত নজরদারির অভাবে অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় যেমন জয়দেবপুর, শ্রীপুর, চৌরাস্তা, সালনা, কোনাবাড়ী, বোর্ড বাজার, কাশিমপুর, মাওনা, কালিয়াকৈর, টঙ্গী এবং সফিপুর, অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অনিয়মের দায়ে লাইসেন্স না থাকা হাসপাতাল সিলগালা ও জরিমানা করার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন বা অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবার এই সমস্যাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর সদরের পাশাপাশি কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভুঁইফোড় হাসপাতালগুলোর দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও টঙ্গি সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক বেপরোয়া সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।
জেলাটিতে এমন অনেক হাতুড়ে ও ভুয়া চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে, যারা নিজেদের এমবিবিএস বা বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সাধারণ রোগীদের প্রতারিত করছে। অন্যের বিএমডিসি (BMDC) সনদ ও জাল ডিগ্রি ব্যবহার করার অপরাধে এদের জেল ও জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদনহীন ল্যাব, মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং নানা অব্যবস্থাপনার কারণে অতীতে স্বয়ং সাবেক মন্ত্রীর মালিকানাধীন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার সম্মুখীন হয়েছে। গাজীপুরে অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র্যাবের অভিযানে অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব অবৈধ, ভুয়া চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত বা লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত ও বন্ধ (সিলগালা) করা হয়েছে, চৌরাস্তা মডার্ন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেবা জেনারেল হসপিটাল, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিজিটাল জেনারেল হসপিটাল, কোনাবাড়ীতে তাজমহল জেনারেল হসপিটাল, কোনাবাড়ী পপুলার হসপিটাল, কোনাবাড়ী ইউনাইটেড হাসপাতাল, কোনাবাড়ী ল্যাবএইড হসপিটাল, নাওজোড় জেনারেল হাসপাতাল, আশা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, তাকওয়া জেনারেল হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল লিমিটেড, প্রফেসর শিরাজুল হক জেনারেল হসপিটাল, রাহাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতাল, কাশিমপুরের জিরানী বাজারের সাইন্সল্যাব হাসপাতাল, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার স্কয়ার হাসপাতাল, মাইশা জেনারেল হাসপাতাল, সেবা শুশ্রূষা হাসপাতাল, ফাতেমা জেনারেল হাসপাতাল এবং নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার, সুফিয়া হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতাল, জাহানারা শিশু হাসপাতাল, রাবিয়া সকিনা ক্লিনিক, ড. ফরিদা হক মেমোরিয়াল, ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল এবং মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতাল।
যেকোনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসি-এর নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা এবং চিকিৎসকের শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই কেবল মৌখিক অনুমোদনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিচ্ছে। যেহেতু এটি জনস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, তাই যেকোনো জরুরি চিকিৎসা বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র নিবন্ধিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া উচিত।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত সবার সাথে মিটিং করছি এবং সবাইকে সতর্ক করছি। নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমান করা হচ্ছে এবং সিলগালা করা হচ্ছে। আমাদের এই অভিযান সব সময় অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য