![]()
ফয়সাল হোসেন, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার বুক চিরে প্রতিনিয়ত জনপদ গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসে মেঘনা নদী। উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫টি ইউনিয়নই প্রায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হাজার হাজার নদীভাঙা মানুষের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। চরম এই মানবিক সংকটের মাঝে আরও এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি স্থানীয় বাসিন্দারা— কেউ মারা গেলে তাকে সমাহিত করার মতো ন্যূনতম কোনো গোরস্থানও অবশিষ্ট নেই এখানে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, মেঘনার ক্রমাগত ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ এবং ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কবরস্থানগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ভূমি না থাকায়, কেউ মারা গেলে তাকে কোথায় দাফন করা হবে— তা নিয়ে পরিবারগুলোকে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কমলনগরবাসীর একটাই আকুল আবেদন, সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে নদীভাঙা অসহায় মানুষের জন্য সরকারিভাবে একটি স্থায়ী গোরস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়।
ভূমিহীন ও বাস্তুহারা মানুষের এই দীর্ঘশ্বাস এবং গোরস্থানের দাবির বিষয়ে কথা হয় কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাদুজ্জামানের সাথে। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং এই সংকট সমাধানে কাজ চলছে।
ইউএনও রাহাদুজ্জামান আরও বলেন, “সরকারিভাবে জায়গা সংকুলানের জন্য যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা দাতা গোরস্থানের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দিতে আগ্রহী থাকেন, তবে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্থানীয় জনগণের এই যৌক্তিক দাবি পূরণে প্রশাসন সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কমলনগরের নদীভাঙা মানুষের শেষ ইচ্ছেটুকু সম্মানজনকভাবে বাস্তবায়নের জন্য এখন সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের দিকেই চেয়ে আছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



মন্তব্য