বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
 

গোয়ালন্দে অসহায় ৪টি পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা, সহযোগিতায় দুই বিএনপি নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬

---
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় নিপুণ অর্গানিকস নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসহায় ৪টি পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
মিলের এই অনৈতিক কাজে স্হানীয় হালিম ফকির এবং জাহিদ ফকির নামে বিএনপির দুই নেতাকে ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে।  ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে সরকারি ওই খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরেজমিন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাউল্লা ফকিরপাড়ায় গেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় সরকারী কিছু খাস ও রেলওয়ের জমি রয়েছে। সেখানে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমি নদী ভাঙনের শিকার মানুষ। প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। এখন সুনিপুন মিলের লোকজন এসে বলছে তারা এই জমি লিজ নিয়েছে। আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদের জন্য  মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা ধরনের ভয় দেখাচ্ছে।
জোর করে বাড়ির একাংশ ভেঙে গতকাল খুটি স্হাপন করেছে। এখন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু  আমি কোথায় যাব? আমাদের মাথা গোঁজার আর কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ঘর ভাঙে নিয়ে যাওয়া বাবদ স্থানীয় বিএনপি নেতা হালিম ফকির ও জাহিদ ফকির আমার বাড়িতে এসে জোর করে বিছানার উপর আড়াই লক্ষ টাকা রেখে গেছে। কিন্তু আমরা টাকা নিয়ে এই জায়গা ছাড়তে রাজি নই।”

একই এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদ খান বলেন, “কয়েকদিন আগে হঠাৎ হালিম ফকির এসে আমার বসতভিটার মাপঝোক শুরু করেন। আমাকে বলা হয়, এই জায়গা মিলের মধ্যে পড়ে গেছে, তাই ছেড়ে দিতে হবে। আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কোথাও যেতে পারব না।”
তিনি বলেন, “আমাদের তিনটি পরিবার এই ছোট্ট জায়গার ওপর নির্ভরশীল। বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু করতে এলে আমি বাঁধা দিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা বিধবা রেশমা খাতুন বলেন, “আমি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে এখানে থাকি। বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিছু লোক এসে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা জায়গা ছেড়ে যেতে রাজি নই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ ফকির বলেন, “আমি কাউকে উচ্ছেদের জন্য চাপ দেইনি। বরং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি ভয়ভীতি দেখিয়েছি, তাহলে যে কোনো শাস্তি মেনে নেব।” হালিম ফকির বলেন, “বেলায়েত আমার আত্মীয় হয়। সে নিজেই আমাকে মধ্যস্থতার জন্য ডেকেছিলেন। আমি শুধু বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সুনিপুন মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বেলায়েত আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী। তার সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। মিলের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বাউন্ডারি নির্মাণের প্রয়োজন হয়েছে। সে বিষয়ে আলোচনা চলছিল। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করতে চাই না। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon