![]()
মোঃ আলমগীর হোসেন বাদশা, বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নে সরকারি নির্দেশনা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খোদ ঠিকাদার কাজের অনিয়ম পরোক্ষভাবে স্বীকার করলেও রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা প্রকৌশলী, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবিল ইউনিয়নের ওই রাস্তাটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের সুরকি ও সামগ্রী দিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করলে এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে, দেবিদ্বার উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হাসান প্রথমে সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সাথে সাইট থেকে সব নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নিয়ে সিডিউল অনুযায়ী ভালো সামগ্রী দিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদার মোঃ মানিক পূর্বের সেই একই নিম্নমানের মালামাল দিয়েই পুনরায় কাজ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা আবারও উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করেন।দ্বিতীয়বার সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হাসান সাংবাদিকদের ফোন করে দাবি করেন, “স্থানীয়রা বলছেন রাস্তা নির্মাণের কাজ ও মালামাল ঠিক আছে, তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাই আমারও কোনো কথা নেই। প্রকৌশলীর এমন মন্তব্যে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা হতবাক হন। সাংবাদিকরা তখন তাঁর কাছে জানতে চান, সরকারি তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকারি টেন্ডার ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝবেন, নাকি নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘স্থানীয়দের মতামতের’ অজুহাতে নিম্নমানের কাজকে বৈধতা দেবেন? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে প্রকৌশলী রাস্তা থেকে কিছু মালামাল পরীক্ষার কথা বলে পলিথিনে ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারের অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই তিনি এমন ভূমিকা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ মানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরোক্ষভাবে সিডিউল অনুযায়ী মালামাল ব্যবহার না করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর পাল্টা দাবি, বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর দাম অনেক বেশি। টেন্ডারের নিয়ম মেনে শতভাগ সঠিক মালামাল দিলে তাঁর ব্যবসায়িক লোকসান হবে, আর এই কারণেই তিনি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারের এক সহযোগী জানান, উপজেলা প্রকৌশলীকে ‘ম্যানেজ’ করেই ঠিকাদার পুনরায় এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবিল ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির টেকসই নির্মাণ নিয়ে এখন তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— সরকারি অর্থায়নের এই প্রকল্পে সিডিউল ও গুণগত মান বজায় রাখার দায়িত্ব কার? ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর এমন দায়সারা ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কতটুকু লাঘব হবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য