বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
 

সাউথ আফ্রিকা-মরিশাস প্রবাসী সাজুর মানবিক উদ্যোগে এতিমখানায় তিনটি ফ্যান প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬

---

সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোর বীরগাঁও মাদ্রাসা বাড়িস্থ সোবহানিয়া হাফিজিয়া এতিমখানার কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাউথ আফ্রিকা ও মরিশাস প্রবাসী সমাজসেবক সাজু। প্রখর গরমে কষ্টে থাকা এতিম শিশুদের কথা চিন্তা করে তিনি এতিমখানায় তিনটি ফ্যান প্রদান করেছেন। তার এই মহৎ উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা যায়, চলমান তীব্র গরমে এতিমখানার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা ও হিফজ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। গরমে শিশুদের কষ্টের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এতিমখানার পক্ষ থেকে তিনটি ফ্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। পরে এস টিভি টুয়েন্টি ওয়ান ও দৈনিক পূর্ণ জাগরণ-এর বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আলীমজনু বাবুর মাধ্যমে বিষয়টি সাউথ আফ্রিকা ও মরিশাস প্রবাসী সাজু ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে তিনি মানবিক বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি এতিমখানার জন্য তিনটি নতুন ফ্যানের ব্যবস্থা করেন। পরে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোতালেব সরকার, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এতিমখানার হুজুরের হাতে ফ্যানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

ফ্যান পেয়ে এতিমখানার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এখন ফ্যানের সুব্যবস্থা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

এসময় এতিমখানার পক্ষ থেকে সাউথ আফ্রিকা-মরিশাস প্রবাসী সাজু ভাইয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অসহায় শিশুদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাশাপাশি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা হয়, তিনি যেন সাজু ভাইকে সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও আরও বেশি মানবসেবামূলক কাজ করার তৌফিক দান করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলও প্রবাসী সাজুর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এমন উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon