![]()
ফজলে রাব্বি
চট্টগ্রামের নগর সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও কর্মমুখর মঞ্চজীবন থেকে উঠে এসে দেশীয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তরুণ অভিনেতা খোরশেদুল আলম। দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত এই অভিনয়শিল্পী সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ওয়েব কনটেন্ট ও টিভি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন।
শুধু অভিনয় নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণেও তিনি অনেকের কাছে পরিচিত। মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবেই অনেকেই তাকে চেনেন। সামাজিক সহায়তা, সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবা ও বিভিন্ন নাগরিক উদ্যোগে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে আলাদা একটি পরিচয় দিয়েছে।
খোরশেদুল আলমের অভিনয়জীবনের শুরুটা মঞ্চনাটককে কেন্দ্র করেই। চট্টগ্রাম শহরের থিয়েটার সংগঠনসমূহের অনুশীলন কক্ষ, মহড়া ও ছোট–ছোট সাংস্কৃতিক চর্চা তার শিল্প–চেতনার ভিত গড়ে দেয়। অভিনেতা হিসেবে চরিত্রের নির্মাণ, কণ্ঠ প্রক্ষেপণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও গল্পের ভিতর ডুবে থাকার যে অনুশীলন মঞ্চ তাকে দিয়েছে—পরে সেটিই ক্যামেরার সামনে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
মঞ্চের দর্শক ও ক্যামেরার দর্শক যে সম্পূর্ণ আলাদা—তা সম্পর্কে সচেতন অভিনেতা খোরশেদুল বলেন, “মঞ্চে দর্শক সামনে থাকে, প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক। কিন্তু ক্যামেরায় সবকিছু দ্রুত, নির্ভুল ও অনেক বেশি সংযত হওয়া দরকার। এই দুই অভিজ্ঞতাই আমাকে সমৃদ্ধ করছে।”
শুধু অভিনয় নয়, চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নাট্য নির্মাণ, নাট্যলেখন এবং অভিনয় প্রশিক্ষণেও তার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণদের থিয়েটারচর্চা ও অভিনয় শিক্ষায় উৎসাহ দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি ইতোমধ্যেই অনেকে কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে ওয়েব প্ল্যাটফর্মে মানসম্পন্ন কনটেন্ট নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। এই পরিবর্তনের সাথেও তাল মিলিয়ে কাজ করছেন খোরশেদুল আলম। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘তুমি আমার কে’, ‘আলো’, ‘মানুষ না মানুষ’ লুকিয়ে বাঁচি’ সহ বেশ কিছু আলোচিত নাটকে অভিনয় করে দর্শক ও নির্মাতাদের প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
চট্টগ্রামের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিনয়যাত্রা রাজধানীর ক্যামেরা–বিমুখ জগতে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হচ্ছে। আগামীতেও পর্দার জন্য উল্লেখযোগ্য কাজ উপহার দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অভিনেতা।



মন্তব্য