বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
 

সরকারি কর্মকর্তা বোন জামাই কতৃক মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার শ্যালক-শ্যালিকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ জানুয়ারী ২০২৬

---
নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর:

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক মো: নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর ভাই প্রবাসী শ্যালক মো: সাজ্জাদ শেখকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নাসিরের স্ত্রীর বড়ো বোন শ্যালিকা মাফিয়া বেগম (বিনা)কে মারধর করারও তথ্য মিলেছে।

জানা গেছে, নাসির উদ্দীনের মেয়ের বিবাহের জন্য মেয়ের মামা ও নাসির উদ্দীনের শ্যালক সাজ্জাদ শেখের কাছ থেকে নগদ ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণ নাসির উদ্দীন নেন। ওই টাকা সাজ্জাদ দাবী করলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এসময় নাসির উদ্দীন তার স্ত্রীর বড়ো বোন মাফিয়া বেগমকে মারধর করেন। এ নিয়ে শ্যালিকা মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় গত বছরের ২ আগস্টে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে স্থানীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও নাসির উদ্দীন শ্যালক সাজ্জাতের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর সাজ্জাদ শেখ পাওনা টাকা দাবী করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে গতবছরের ৮ অক্টোবরে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলা সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছেন। পরে নাসির ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আদালতে ১৬ অক্টোবর একটি কাউন্টার মামলা দায়ের করলে আদালত সদর থানায় মামলাটি তদন্তের জন্য দেন। এর কিছুদিন পর সাজ্জাদ সৌদি আরবে তার কর্মস্থলে চলে গেলে এসআই মো: আব্দুর রহিম তড়িঘড়ি করে ৭ ডিসেম্বরে মামলাটির তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

অভিযুক্ত নাসির উদ্দীন বলেন, আমি সাজ্জাতের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি এবং মাফিয়া বেগমকেও মারিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। আমি আরও উল্টো সাজ্জাদের কাছে টাকা পাই।

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ শেখ জানান, আমি কোনো দুর্নীতি করি নাই দুর্নীতি করলে নাসির করছে। সে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে অস্বীকার করতেছে, এজন্য মামলা করেছি। আশাকরি আদালত সবকিছু ভালোভাবে ফায়সালা করবে।

শ্যালিকা মাফিয়া বেগম (বিনা) বলেন, নাসির আমাদের কাছ থেকে স্বর্ণ ও টাকা নিয়েছে। সে গুলো না দিয়ে উল্টো আমাকে সে মারধর করে। মারধর করার সেই দাগ গুলো এখনো আমার শরীরে আছে, আমার হাতও ভেঙে ফেলছিল, আমি এখনো অসুস্থতার কারণে ঠিক মতো হাঁটাচলা করতে পারিনা। সালিশিতে বসার কথা বলে আমাদের আরও অপমান করেছে।

সালিশিদার আলোম মোল্লা বলেন, আমার কাছে সাজ্জাদ এসে ঘটনা বল্লে আমি নাসিরকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করি। নাসির টাকার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন যে এতো টাকা পাবোনা এটা ঠিক তবে, মামলার কাগজে এটা লেখতে হয়। তবে আমি যে সমাধান করে দিয়েছিলাম, সেটা মানলেই ভালো হতো। তাহলে আর এ পর্যায়ে যেত না।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon