মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, অতিষ্ঠ পাথরঘাটাবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

---

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি :

বরগুনার পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মো. মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলে সহযোগিতা ও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া কাঞ্চুরহাট এবং চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার ও বান্ধাঘাটা এলাকাসহ একাধিক স্থানে বেরিবাঁধ ও সরকারি জমির ওপর গড়ে উঠেছে হাট-বাজার ও বহুতল ভবন। অনেক স্থানে বেরিবাঁধের ঢালে ভূমিহীন পরিবার ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনা নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তা মামুনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দের নামে স্থাপনা নির্মাণ চলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে টাকা দিয়েই কাজ করছেন। সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমা টেংড়া বাজার এলাকায় বেরিবাঁধের ওপর বন বিভাগের বনায়নের হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর তোলার ঘটনাও ঘটেছে। বন বিভাগের বাধা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ঘর তুলতে পারেননি। পরে এমাদুল গাজী ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর অনুমতি পান বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, এভাবে সরকারি জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, সংরক্ষিত বনায়নের গাছ কেটে দোকান নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর জানান, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার কাছেও একাধিক অভিযোগ এসেছে। তার মতে, ঘটনাগুলো তদন্ত হওয়া জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাথরঘাটা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. মামুন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বোর্ডের নাম ব্যবহার করে অর্থ নিচ্ছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

 

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon