মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
 

গাজীপুরের উত্তরের বৃহত্তম থানা, ইতিহাস–ঐতিহ্য ও পর্যটনের অপূর্ব জনপদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ আশিকুর রহমান, শ্রীপুর, গাজীপুর

গাজীপুরের উত্তরের বিস্তীর্ণ শালবনে ঘেরা জনপদ শ্রীপুর জেলার সবচেয়ে বড় থানা হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র—সব মিলিয়ে শ্রীপুর গড়ে উঠেছে এক বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে।

ইতিহাস ও প্রশাসনিক পরিচিতি

১৯৩৩ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ছিল কাপাসিয়া থানার অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে শ্রীপুরকে থানায় উন্নীত করা হয়। উপজেলার আয়তন ৪৬২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ৪৯২,৭৯২ জন (২০১১ সালের আদমশুমারি)। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রায় ১০৬০ জন। ব্রিটিশ আমলে কাপাসিয়া অঞ্চলের প্রধান পোস্ট অফিস ছিল শ্রীপুরে, কারণ রেলপথে ঢাকা থেকে সহজেই ডাক পৌঁছানো যেত। বর্তমানে শ্রীপুরে রয়েছে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন।

উপজেলার ইউনিয়নসমূহ ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

ভাওয়াল রাজবাড়ি ইউনিয়ন

উত্তর–দক্ষিণে প্রায় ১১ কিলোমিটার বিস্তৃত এই ইউনিয়নের চিনাশুশানিয়া গ্রামে ছিল মধ্যযুগের বৌদ্ধধর্মাবলম্বী চণ্ডাল রাজার প্রাসাদ। এক যুগ আগেও কিছু ধ্বংসাবশেষ দৃশ্যমান ছিল। এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ির নামেই ইউনিয়নের নামকরণ।

প্রহলাদপুর ইউনিয়ন

বেলাই বিলের উত্তর প্রান্তে নিম্নাঞ্চল বিধৌত এলাকা। শ্রীপুরের সবচেয়ে খোলা প্রান্তর এখানেই। উপজেলা সদর থেকে দূরে হলেও গাজীপুর সদর অনেক কাছাকাছি।

গোসিংগা ইউনিয়ন

প্রাচীন দিঘী, মনোমুগ্ধকর গোসিংগার ঘাট ও শীতলক্ষ্যা নদীর প্রবাহে সমৃদ্ধ এই ইউনিয়ন।

বরমী ইউনিয়ন

চার শত বছরের পুরনো বরমী বাজার, দুই নদীর মোহনা এবং শত শত বানর—সব মিলিয়ে বরমী আজ দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ বাজারগুলোর একটি। সাতখামাইর রেলস্টেশন এখানেই অবস্থিত।

কাওরাইদ ইউনিয়ন

পূর্ব–পশ্চিমে দীর্ঘায়িত এই ইউনিয়নে রয়েছে গাজীপুর জেলার সবচেয়ে উত্তরের রেলস্টেশন—কাওরাইদ। সংলগ্ন রয়েছে ভালুকা ও গফরগাঁওয়ের সীমান্ত।

তেলিহাটি ইউনিয়ন

রেলপথ না থাকলেও লোহাই হাট এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ হাট। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক তেলিহাটি ও গাজীপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে গেছে।

গাজীপুর ইউনিয়ন

শৈলাট এলাকার সামান্য উত্তরে ময়মনসিংহের ভালুকার কাচিনা। শৈলাট মধ্যযুগের চণ্ডাল রাজাদের রাজবাগান ছিল। পাকিস্তান আমল পর্যন্ত শৈলাট–কাচিনা এলাকায় হাতিশালা ছিল।

মাওনা ইউনিয়ন

গাজীপুর সাফারি পার্ক, নুহাশ পল্লীর উত্তরাংশ ও বিখ্যাত মাওনা চৌরাস্তা এই ইউনিয়নের প্রাণ। মাওনা চৌরাস্তা এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ কেন্দ্র।

রেল যোগাযোগ

শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছে পাঁচটি রেলস্টেশন—কাওরাইদ, সাতখামাইর, শ্রীপুর, ইজ্জতপুর ও রাজেন্দ্রপুর।

শ্রীপুর পৌরসভা ও প্রাচীন স্থাপনা

পূর্ব–পশ্চিমে বিস্তৃত শ্রীপুর পৌর এলাকার অন্যতম আকর্ষণ ওয়াইদ্যার দিঘী, যা প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ বছরের পুরনো একটি বিশাল দিঘী। এখানেই অবস্থিত শ্রীপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ।

পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র

শ্রীপুর পর্যটকদের জন্য আজ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানসমূহ—গাজীপুর সাফারি পার্ক (সাবেক বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক)

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট

নুহাশ পল্লী, শিশুপল্লী প্লাস, কালমেঘ ও গ্রীন ভিউ রিসোর্ট, শ্রীপুর জমিদার বাড়ি, বিভিন্ন চা বাগান, লেক ও পিকনিক স্পট, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শালবন, নদী, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সমন্বয়ে শ্রীপুর দিন দিন আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon