![]()
এ এইচ কামরুল, চুয়াডাঙ্গা:
সীমান্ত ঘেঁষা চুয়াডাঙ্গা জেলাতে গত ক’এক দিন ধরে আবারও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। দিনের বেলায় যেনতেন রাতের বেলায় ঠান্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টার আগে দেখা মেলেনি সূর্যের। ঘন কুয়াশা না থাকলেও মেঘের আবরণে জেলার প্রকৃতি দেখা গেছে কুয়াশা ঢাকার মতো। এদিন সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস। তাপমাত্রা একটু বাড়লেও হিমেল বাতাসে আকস্মিকভাবে শীতের দুর্ভোগ বেড়েছে এ জেলায়। তাপমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।
এদিকে গত তিনদিন এ জেলায় রাত হলে বাড়ছে ঘন কোয়াশা, সাথে বইছে হিমেল বাতাস। শীত বেশী অনুভুত হওয়ায় ভোরে মাঠে কাজে যাওয়া মানুষগুলো পড়েছে বেশী বিপাকে। সারাদিন গায়ে গরম কাপড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শীতে প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলের গৃহপালিত প্রাণীদের উপর। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা করতে গরু-ছাগলের পরানো হচ্ছে পুরোনো কাপড় কিংবা চটের ব্যাগ।
চুয়াডাঙ্গার সদরের বেলগাছী গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়া বলেন- শীতের তীব্রতা বাড়লেও এক প্রকার বাধ্য হয়েই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি, তাতে একদিন কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই ভোর থেকেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে কাজে যেতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের আব্দুল্লাহ নামের এক রাজমিস্ত্রী বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কাজে এসেছি। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে কাপুনি ধরে যাচ্ছে। তবুও কিছুই করার নেই। পেটের দায়ে কাজে আসতেই হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের যে দাম তাতে একদিন কাজে না আসলে খাবার জুটবে না। তাই বাধ্য হয়েই কাজে আসতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের কৃষক রেজাউল জানান, মাঠে কাজে যাওয়ার কারণে ভোরে উঠতে হয়। মন চায় না এত ঠান্ডায় কাজে যেতে। মাঠে কাজ করার সময় বাতাসের কারণে শরীর কাঁপুনি ধরে হাত-পা যেন বরফ হয়ে আসে।
সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের শ্রমিক গণি মিয়া জানান, এতো ঠাণ্ডা যে কাদা পানিতে পা রাখা যাচ্ছে না। ঠাণ্ডার কারণে ঠিকমত কাজও করতে পারছি না। সেইসঙ্গে শীতের পোশাকের অপ্রতুলতা দুর্ভোগ বাড়িয়েছে কয়েক গুণ।
মসজিদপাড়া এলাকার সাইফুদ্দিন মানিক বলেন, শীতের চিরচেনা দৃশ্য দেখলাম। আজ সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বেশ বাতাস বয়ে যাচ্ছে। গরম কাপড় ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।
শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়েছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের আনাগোনা থাকায় ফুটপাতের বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। নতুন কাপড়ের দাম বৃদ্ধি যাওয়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানের দিকে ঝুঁকছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বর, নিউ মার্কেটের সামনের সড়কের পাশে, এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে বসেছে পুরনো কাপড়ের পসরা।
এদিকে এ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনও চলছে ধীরগতিতে। শীত থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণ রাখার চেষ্টা করছেন শীতার্ত মানুষেরা। প্রচণ্ড শীতে স্বাভাবিক চলাফেরাও অনেকটা থমকে গেছে। শীতের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকপ। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না সল্প আয়ের মানুষেরা।



মন্তব্য