![]()
মিনহাজ আলম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে তেল ঢেলে স্বামীর দেয়া আগুনে ঝলসে গেছে শরির। ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েও কাতরাচ্ছে ২৫ বছর বয়সী লতা বেগম। তিন সন্তানের জননী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া লতা বেগমের উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।
ডিজেল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া শরীর নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মাহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ৫০৯ নম্বর কক্ষের ২০ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন পঁচিশ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী লতা বেগম।
গেল (১ জুলাই) সকালে নিজ বাড়িতে নির্যাতনের পর স্ত্রী লতা বেগমের শরীরে, ঘরের ভেতরে ড্রামে থাকা ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মহাব্বত আলী। এসময় শশুর শাশুরীসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত থাকলেও এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরির বেশকিছু অঙ্গ পুরে যায় লতা বেগমের।
পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার তিন দিন পেড়িয়ে গেলেও আর্থিক সংকটের কারনে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে প্রায় চারমাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে মহব্বত। এরপর থেকে পাষন্ড স্বামী মহব্বত আলী প্রায়ই নির্যাতন চালাতো লতা বেগমের উপর।
এ ঘটনার পর মহব্বতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার এমন কর্মকান্ডে কঠিন শাস্তির দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যু যন্ত্রণায় লতার চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছিল।
তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে লতা জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানা ভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি সন্তানদের কে দেখবে। আমার বাবা মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যদি কারো দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।
আট বছর আগে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহব্বর আলীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন লতা বেগম। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কণ্যা সন্তান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোঃ রকিবুল আলম জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সকল সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে করাতে পারছেনা।
এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য