![]()
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
শিল্প, সৃজনশীলতা ও যুব নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বরগুনার পাথরঘাটায় তিন দিনব্যাপী ‘স্টেপ-ডাউন ট্রেনিং অন আর্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভিজম ফর পিস অ্যান্ড কোহেশন’ শীর্ষক আবাসিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) পাথরঘাটা ইয়ুথ হাবে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে। নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর আয়োজনে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে বিভিন্ন গ্রুপের যুব সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপিরেটর সুমন আচার্য, প্রজেক্ট অফিসার মরিয়ম আক্তার এবং ফেলো আখিরুজ্জামান সবুজ। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন সাকিব ও আমেনা লিমা। সহযোগী প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালমান। আয়োজকরা জানান, এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো যুবদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা শিল্পভিত্তিক কার্যক্রম ও সৃজনশীল অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় শান্তি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, যুব নেতৃত্ব, অ্যাক্টিভিজম, আর্টিভিজম এবং সামাজিক পরিবর্তনে শিল্প ও সৃজনশীল প্রকাশের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ইস্যু ম্যাপিং, সমস্যা-বৃক্ষ বিশ্লেষণ ও স্টোরি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত, বৈষম্য, বঞ্চনা, সহিংসতা ও সামাজিক বিভাজনের কারণ চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অংশগ্রহণমূলক ও ব্যবহারিক এ প্রশিক্ষণে ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা, দলীয় কাজ, ব্যবহারিক অনুশীলন, সহপাঠীভিত্তিক শিক্ষা, আত্মপর্যালোচনা, উপস্থাপনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া গল্প বলা, স্পোকেন ওয়ার্ড, প্রতিবাদী পোস্টার, কমিউনিটি থিয়েটার, পথনাটক, গ্রাফিতি, দেয়ালচিত্র, লোকসংগীত, র্যাপ, অ্যানিমেশন, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও, মোবাইল চলচ্চিত্র নির্মাণ, কার্টুন, মিম, রিলস ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিংয়ের মতো বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যম ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতিবিষয়ক সৃজনশীল বার্তা, শিল্পকর্ম, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য যুব নেতৃত্বাধীন আর্টিভিজম ও কমিউনিটি ক্যাম্পেইনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সৃজনশীল প্রকাশকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম এবং নেতৃত্বদানে দক্ষ একটি যুব নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে



মন্তব্য