শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুমুক্তের দাবিতে পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

---

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমন, গভীর সাগরে মাছ শিকাররত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক ও সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ডাকাতদের গুলিতে এক জেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আরেকজন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, “সাগরে যদি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়, তাহলে আমরা জাল ফেলব না। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকে সম্পূর্ণ জলদস্যুমুক্ত করতে হবে।”

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, গভীর সাগরে ডাকাতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারবে না। তিনি দ্রুত যৌথ টহল জোরদার এবং জলদস্যুদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সম্প্রতি জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা আহত জেলে শাজাহান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডাকাতরা হঠাৎ ট্রলারে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে এবং জেলেদের মারধর করে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে আত্মসমর্পণ করা কিছু দস্যু পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বক্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতায় জেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। লুটপাট, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মানববন্ধন থেকে সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার, সক্রিয় জলদস্যুদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে উপকূলীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরবে এবং জেলেরা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon