![]()
মোঃ শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি:
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজবাড়ীতে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)রাত ১২ টা ১ মিনিটে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ খুশি রেলওয়ে ময়দান সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়।
প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা আক্তার,এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, ,উপপরিচালক স্থানীয় সরকার ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আশিক উন নবী তালুকদার,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ তারিফ উল হাসান ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (১.নেজারত শাখা ২. ট্রেজারি শাখা৩. ফরমস এন্ড স্টেশনারি শাখা, ৪. ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা) (ফোকাল পারসন, ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার আইন) মোঃ হাফিজুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিচার বিভাগ, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড, সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ছিল শোক ও শ্রদ্ধার আবহ। হাতে ফুল আর বুকে ভাষা শহিদদের স্মৃতি ধারণ করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মধ্যরাত থেকেই শহিদ মিনারে সমবেত হন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আবেগঘন।
জেলা প্রশাসক সুলতান আক্তার বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার অধিকার। সেই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই পরবর্তীতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।”
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ আয়োজন।
মহান ভাষা শহিদদের স্মরণে রাজবাড়ীবাসী আজও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন—বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে।



মন্তব্য