![]()
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি, সিলেট
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে শতবর্ষের ঐতিহাসিক জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে গেছে, আর পাথরখেকো চক্রের দানবীয় থাবায়, বিলীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক ‘শাহ আরপিন টিলা’কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত শত বছরের পুরোনো এই টিলা ও এর চূড়ায় থাকা ঐতিহাসিক মাজারটি এখন শুধুই ইতিহাস।যেখানে একসময় হাজারো ভক্তের সমাগম হতো,সেখানে এখন শুধুই মরুভুমি বালুচর আর ধ্বংসস্তূপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন পাহাড় কেটে শতকোটি টাকার পাথর লুট করেছে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী অপরাধী চক্র। এই লুটপাটের ফলে সরকার হারিয়েছে বিপুল রাজস্ব, আর প্রকৃতি হারিয়েছে তার ভারসাম্য। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র, শাহ আরেফিন টিলার অস্তিত্ব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। টিলার মাটি ও পাথর কেটে এমনভাবে সমতল করা হয়েছে যে, নতুন কেউ গেলে বুঝতেই পারবেন না এখানে একসময় বিশাল পাহাড় ও মাজার ছিল। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী পাথরখেকোরা এক্সেভেটর ও বোমা মেশিন ব্যবহার করে টিলাটি ধসিয়ে দিয়েছে। মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করে লুট করা হয়েছে মাটির নিচের পাথর। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু একটি পাহাড়ের মৃত্যু নয়, এটি সিলেটের পরিবেশের জন্য এক অশনি সংকেত। এখনই যদি বাকি টিলাগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়,তবে কোম্পানীগঞ্জ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
শাহআরপিনের পাথর লুটের নেপথ্যে উঠে এল ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট চক্রের নাম। অনুসন্ধানে ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে এই অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছেন-চিকাডহর ও জালিয়ার পার এলাকার এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টিলা নিধনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।



মন্তব্য