![]()
সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান এবং দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচজন দুস্থ ব্যক্তির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক শহীদ পরিবারের সদস্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন ‘বাবা, আমি দেশ স্বাধীন করতে যাচ্ছি। যদি মরে যাই, তুই বলতে পারবি স্বাধীনতা আনতে গিয়ে মারা গেছে।’ এই দেশের জন্য আমার বাবা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আমরা তেমন কিছুই পাইনি। আমার তিনটি মেয়ে, নামমাত্র ভাতা দেওয়া হয়, এটাই সব। এখন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের দিকে কেউ তেমন খেয়াল করে না। খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের সহায়তার আবেদন জানাই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাঙালিকে বারবার গর্জে উঠতে হয়েছে। ভারত উপমহাদেশের এই বাংলা ভূখণ্ডের মানুষ কখনো দীর্ঘদিন বশ্যতা স্বীকার করে বসে থাকেনি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, তবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ আবারও গর্জে উঠবে। এটাই এ মাটির ধর্ম, এটাই আমাদের গর্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, যাঁরা কাছ থেকে যুদ্ধ দেখেছেন এবং যাঁরা শুনে শুনে স্বাধীনতার স্বাদ নিচ্ছেন সবার অনুভূতি একই, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। দেশপ্রেমের সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের প্রতি জানাই তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার। যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে পিছপা হবো না’



মন্তব্য