![]()
মাহফুজ রাজা,ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ১১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতাশটি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাই শিশুদের মুল ফাউন্ডেশন হলেও শিক্ষকের অবহেলা ও নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে।
জানা যায়, বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন কোটা, দলিয় সুপারিশসহ অর্থের বিনিময়ে নিয়োগকৃত অধিকাংশ অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হওয়ায় বিদ্যালয় গুলোতে উপযুক্ত পাঠদানে ব্যর্থতা, অনিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক শিক্ষার চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে। এতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে দিন দিন ছাত্রছাত্রী সংখ্যা কমে গিয়ে প্রাইভেট স্কুল বা কিন্ডারগার্টেন মূখী হচ্ছে প্রাথমিকের শিশুরা। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির হোসেনপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন জানান, গত ১০ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় এ শূন্যতা দেখা দিয়েছে। ২৮ জন সহকারী শিক্ষকের স্কেলে থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় দক্ষতার অভাব রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে নিয়ম শৃঙ্গলা ও পাঠদান কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। মহিলা শিক্ষকদের নিজ এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকুরী করায় কর্মক্ষেত্রে অনেকেই স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন। এ বিষয়ে উপজেলার বাসুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের অভিভাবক বদরুন নাহার জানান, ক্লাসে ডায়েরী লিখা, হাতের লিখাসহ আগের দিনের পড়া-লিখা আদায় করার নিয়ম থাকলেও এসব কিছুই না করায় ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক শূন্য থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করায় এবং সহকারী শিক্ষা অফিসারগন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয় সমুহ নিয়মিত পরিদর্শন এবং শিক্ষার মান যাচাই না করায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছেনা। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট বা কোচিং নির্ভর হতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারী স্কুলে ভর্তি করেও অভিভাবকগন বাচ্ছাকে প্রাইভেট স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের ক্লাশে পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রধান শিক্ষক সংকটের বিষয়ে উর্ধ্বতনের নিকট প্রতি মাসেই প্রতিবেদন দিচ্ছি, কিন্তু ইহার কোন সমাধান পাচ্ছি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি, প্রাথমিক শিক্ষকদের কোন অবহেলা ও অনিয়ম ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের কে সচেতন থেকে শিক্ষা উন্নয়নে সহযোগীতা করার অনুরোধ করছি”।



মন্তব্য