মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
 

কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের অচলাবস্থা ; ব্যবস্থা নেননি ভিসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

 ---

বিশেষ প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট বিরাজ করছে। এই সংকটের কারণে অফিসে প্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনজনের কাজ একজনকে করতে হচ্ছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে অন্তত ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে বারবার অবহিত করা হলেও তিনি এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ফলে সেবা পেতে শিক্ষার্থীরা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

 

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও ১০ বছরেও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীর এই তীব্র সংকটে তাদের নিয়মিত কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের অন্তত ২২টি ইভিনিং ও উইকেন্ড কোর্সের ফলাফল প্রস্তুত করতে হচ্ছে। লোকবল কমলেও কাজের চাপ বেড়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই। পরীক্ষার সময়ে একজনকেই অনেকগুলো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ আটকে থাকার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।”

 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ার চেয়েও বর্তমানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শাখা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বারবার প্রশাসনকে এই অটোমেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছি। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা বর্তমান ছাত্রশক্তিও অটোমেশন বাস্তবায়নের দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের যে টেকনিক্যাল জটিলতাগুলো রয়েছে, সেগুলো অটোমেশনের মাধ্যমে সহজেই সমাধান করা সম্ভব। এতে ফলাফল প্রকাশের বিলম্ব কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে। বর্তমান প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন ব্যর্থতা দেখা যেতে পারে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

 

কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা ওসামা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য স্যারকে নিয়মিতভাবে জানিয়ে আসছি যে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন স্বাভাবিক ও নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে পারেনি। গত জুলাইয়ের পর থেকে প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের দায়।”

তিনি আরও বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও জাকসু ধারাবাহিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। পাশাপাশি ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রের প্রায় চারজন সায়েন্টিফিক অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সংকট, যার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃত্রিম সেশনজট তৈরি হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ফাইল প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করেছি। বর্তমান সংকট আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করছি এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে নোট আকারে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন নিয়োগ সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “কেন এখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বা কীভাবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়ে প্রশাসনের নিজস্ব নীতিগত কিছু বিষয় থাকতে পারে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি; বরং প্রয়োজনীয় সকল কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। উপাচার্য নির্দেশ দিলে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করা হবে।”

 

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon