বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪
 

নবীনদের চোখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাস
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

---

এসো হে নবীন, এগিয়ে চল অবিরাম,অন্তহীন ভোরের সূর্যের প্রথম আলো, স্বপ্নডানা মেলে জয়ের অগ্নি হৃদয়ে ঢালো। নতুন স্বপ্ন নতুন পরিবেশ সব মিলিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ভিতরে আতংক কাজ করে। নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াটা ও একটা চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ এক অন্য রকম অনূভুতি। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আশা আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন জবি প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান রাকিব

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়! পুরান ঢাকার কংক্রিটের নির্জীব নগরীতে এক সজীব প্রাঙ্গণ। সাড়ে সাত একরের এ প্রাঙ্গণ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শুরুর একটি প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থী, বন্ধুসুলভ শিক্ষকবৃন্দ, সহযোগিতাপূর্ণ সিনিয়র ভাইয়া-আপুরা আর আবৃত্তি, বিতর্কসহ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের সংগঠনগুলো এ প্রাঙ্গণের নির্জীব ইমারতগুলোর প্রাণ। শিক্ষা,সংস্কৃতি,ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সারথী। সকলের আন্তরিকতা এখানকার সকল প্রতিবন্ধকতাগুলো ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলছে। শিক্ষার্থীরা সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন দিগ্বিদিক।

জবি আশাহত শিক্ষার্থীদের জন্যও একটা সুযোগ নিজেকে তুলে ধরার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও আমাদের সমাজ ব্যাপারটাকে ভর্তি-যুদ্ধ নামে অভিহিত করে ভয়ংকর করে তুলেছে । এ যুদ্ধে একজন শিক্ষার্থী তথাকথিত সফলতা না পেলে জীবনের সব দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায় না। তবে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি যুদ্ধের এতোই গুরুত্ব দিয়ে ফেললাম যে যোদ্ধার জীবনের গুরুত্বই ভুলে গেলাম। এটাই ছিল সে মৌসুমে আমার সবচেয়ে বড় ভুল।অসুস্থতা গুরুত্ব না দিয়ে শুধু লেখাপড়া আর পরিশ্রমকে মূলমন্ত্র মানলেই সফলতা আসবে এমন ভুল ধারণা মনে গেঁথে গেল। অসুস্থতা বাড়তে থাকলে একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হতে থাকলো। সেবার আর জবিতে সুযোগ হলো না। স্বাভাবিকভাবেই সমাজের পিছিয়ে পড়া সৈনিক হিসেবে জীবন জটিল থেকে হলো জটিলতর। অতঃপর শেষ মুহূর্তে মনে হলো হারিয়েছে যা হারাবার। এবার এ প্রতিকূলতায় নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার। আবার পরীক্ষা দিলাম। আশানুরূপ হয়নি । তবে আল্লাহর রহমতে আজ আমি জবিয়ান।

ফেরদৌসি ফিরোজ ফ্লোরা

শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশে নিজেকে দক্ষ ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো এই আশায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। বাবা-মা, শিক্ষকবৃন্দের গর্বের কারণ যেন হতে পারি। শ্রদ্ধেয় অগ্রজদের মতো আমরা ১৮ তম আবর্তনও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান সমুজ্জ্বল করতে পারি।

নাম: ফেরদৌসি ফিরোজ ফ্লোরা
বিভাগ: ইতিহাস
ব্যাচ: ১৮ তম আবর্তন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সামিউল ইসলাম সামি

সকল প্রকার অপসংস্কৃতি চর্চা থেকে মুক্ত থাকুক জবি

“একবিংশ শতাব্দীর লড়াই জ্ঞানের লড়াই। বীরত্ব প্রমাণে এখন আর কেউ চাইলেই যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধে রওনা দিতে পারবে না, পারবে না সে বীরের উপাধিতে ভূষিত হতে। জ্ঞানের লড়াইয়ে যে শ্রেষ্ঠ সেই প্রকৃত বীর”- এসব কথাগুলো বইয়ের পাতায় কিংবা পত্র-পত্রিকায় হরহামেশাই চোখে পড়তো কিন্তু বাস্তবে উপলব্ধি হয় উচ্চমাধ্যমিক পরবর্তী ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘ভর্তিপরীক্ষা’ নামক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে। সীমিত সংখ্যক আসনের বিপরীতে লড়াই করতে হয় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে। কাকে পিছনে ফেলে কে সামনে এগিয়ে যায় সেই লড়াই,যে লড়াইয়ে .২৫ নাম্বারের ব্যবধানে পিছিয়ে যেতে হয় শত শত প্রতিযোগী থেকে আবার এ ব্যবধানে কখনো কখনো হাতছাড়া হয়ে যায় সোনার হরিণ খ্যাত মহামূল্যবান একটি আসন।
একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের এ যুদ্ধকে নিয়ে নেটিজেনদের ব্যাপক সমালোচনা পরিলক্ষিত হলেও আমি বলি যে,উচ্চমাধ্যমিক পাড়ি দেয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া উচিত। যে লড়াই নিজেকে চিনতে শেখায়,লাখো সহপাঠীর মাঝ থেকে নিজের অবস্থান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় - আমি সে লড়াইয়ে হারি কিংবা জিতি তাতে কিছু আসে যায় না। এই যে নিজেকে আবিষ্কারের পথটা খুলে দেয় যে যুদ্ধ সে যুদ্ধের চাইতে সুন্দরতম, মহৎ যুদ্ধ আর কোথায় পাওয়া যাবে?
প্রায় চারশত বছরের পুরোনো নগরী ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন যেখানে ঠিক সেখানেই পুরান ঢাকার বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যায়তন “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়”। বাকি আট-দশজন শিক্ষার্থীর ন্যায় আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। হাজারো প্রতিযেগীর মাঝে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসন নিশ্চিত করতে পারায় মহান রবের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিতভাবে একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেসব কার্যক্রম ও উদ্যোগ হাতে নেয়া হয় পুরো দেশে সেসব কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। কাজেই বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম ঠিক রেখে সকল প্রকার অপসংস্কৃতি চর্চা থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষা ঈমান ও শৃঙ্খলায় আবদ্ধ হয়ে “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়” নামটি যেন পৌছে যায় দেশ ছাপিয়ে বিশ্বমঞ্চে-এই প্রত্যাশায়..

নাম: সামিউল ইসলাম সামি
বিভাগ: ইতিহাস
ব্যাচ: ১৮ তম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

রাফীদ আদ-দ্বীন রাঈম

জবি হোক সাফল্যের সিড়ি

“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়” ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার আগে ১৮৮৪ সালে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন কলেজ হিসেবে এটি তার যাত্রা শুরু করে। সত্যি বলতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিবাক্য (শিক্ষা, ঈমান, শৃঙ্খলা) আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। আমি মনে করি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে গেলে শিক্ষা ঈমান এবং শৃঙ্খলার মিশ্রণ থাকা খুবই জরুরী। এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাকে আকর্ষিত করার অন্যতম হাতিয়ার। এডমিশন টাইমের প্রথম দিকে আমি পড়াশোনা নিয়ে অতটা সিরিয়াস ছিলাম না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন বাস্তবতা বুঝতে শুরু করি তখন প্রাণপণে পড়াশুনা শুরু করি। যার ফলশ্রুতিতে আজ আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার আশা-আকাঙ্ক্ষার কমতি নেই। প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং শ্রদ্ধেয় বড় ভাইদের সাহায্য নেওয়া। দ্বিতীয়ত ভাল একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ভালো ব্যবহার এবং ভালো কাজের দ্বারা নিজেকে একজন যুগোপযোগী ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সর্বোপরি আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমি যেন বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করে দক্ষ মানবসম্পদের রূপান্তরিত হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি।

নাম : রাফীদ আদ-দ্বীন রাঈম
বিভাগ : গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
ব্যাচ : ১৮তম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

অনামিকা হালদার স্বপ্না

স্বপ্ন পুরনের সারথি হোক জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার ভাবনা:
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়তে সবাই চায় । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়া একপ্রকার স্বপ্নের মত তেমনি আমারও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার একটা স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটা ছিল। বর্তমানে এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমি ভর্তি যোগ্য হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ার জন্যে একপ্রকার মানসিক ও শরীরিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সময়টা পার করতে হয়, আমারো এর বেতিক্রম হয়নি। এইচ.এস.সি আর পর প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীকে এই সময় টা পার করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় , আমর কাছে আমার স্বপ্নের একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এইখানে পড়ার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমি অনেক গবেষণা করতাম, যেমন: এই বিশ্ববিদ্যালয়টি কেমন, পরিবেশ কেমন, পড়ালেখার পদ্ধতি কেমন, এইসব। আমি এইসব কিছু বিবেচনা করেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আমার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় এর তালিকায় রাখি।

বর্তমানে আমি এখন আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন শিক্ষার্থী। আমি আসলে এখনো এইটা বিশ্বাসই করতে পরছিনা যে আমি এখন আমার স্বপ্নের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন শিক্ষার্থী। জীবনে অনেক সমস্যা থাকবেই কিন্তু জীবনের এই যুদ্ধকে যে জয় করবে সফলতা তার আসবেই , এই বিশ্বাস নিয়েই আমি চলি।

আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো উন্নতি করুক। সকল দিকের প্রতিযোগিতা গুলো যেনো সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে। আমার ইচ্ছা একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয় এর নাম আমরা শিক্ষার্থীরা অনেক উচ্চে তুলবো। এর জন্য প্রয়োজন খালি আমাদের চেষ্টা আর আমাদের প্রয়াস। যেদিন আমি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবো, সেদিন যেনো আমি খুব গর্ব সহকারে যে আমি এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলাম।

অনামিকা হালদার স্বপ্না
সংগীত বিভাগ
১৮ তম আবর্তন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

স্পর্শ বনিক

মুক্ত সংস্কৃতির কেন্দ্র বিন্দু হোক জবি

হিমঝুরি আর গগনশিরীষ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হওয়ার সময় শরৎকাল।এই শরতের শুরুটা হয় শিউলি ফুলের সুবাসে এবং ক্ষণিকের অতিথি বন খঞ্জনের কিচিরমিচিরে।আর এই শরতে কোনো এক বাঁশঝাড় ঘেরা শাপলা-দীঘির শান-বাঁধানো ঘাটে বসে বসে যদি কবিতা লিখা যায় তাহলে সে হয় এক নষ্টালজিয়া ব‍্যপার।সৌন্দর্য উপভোগের সঠিক সময় হচ্ছে শরৎকাল।আর এত সব সুন্দরের সাথে যদি নতুন কিছু বারতি পাওনা জুটে তা তো আর মন্দ হয় না।এবছরের শরৎ আমার জীবনের সবচেয়ে মূল‍্যবান একটি সময় উপহার দিয়েছে। মূল‍্যবান বলার কারণ এই শরতেই আমি নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমি কখনো ভাবিনি যে আমার মতো এত সাধারণ এবং গুনহীন মানুষ ও নাট‍্যকলায় ভর্তি হতে পারবো। নাট‍্যকলায় ভর্তি হওয়াটা আমার কাছে বামুন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মতো ছিল।ভাবতেও পারিনি সত‍্যই চাঁদ ছুয়ে ফেলবো।নাট‍্যকলায় ভর্তি হতে পেরে সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অনেকের কাছে নাট‍্যকলা বিষয়টা মূল‍্যহীন। তবে আমার মতো সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে এই বিষয় বড্ড মূল্যবান। সারাটা সময় শিল্পী এবং শিল্পকর্মের সাথে থাকা যাবে এই বিষয়টাই আমাকে বড্ড আকর্ষন করে। এই প্রাপ্তি আমার মতো গুনহীন মানুষের কাছে আকাশে কতৃত্ব পাওয়ার সমান।অপেক্ষায় আছি ক্লাস শুরু হওয়ার।স্বপ্ন পূরণের এ যাত্রায় প্রত্যাশা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় যেন আমাদের পাশে থাকে। খুব আশা নিয়ে নবীন হয়ে আসছি ক্যাম্পাসে। আশাকরি স্বপ্ন পূরণ করে জবিকে সফলতা উপহার দিতে পারবো।

নাম: স্পর্শ বনিক
বিভাগ: নাট্যকলা
ব্যাচ: ১৮ তম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

মিনহাজুল ইসলাম

সৎ, যোগ্য ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলার হাতিয়ার জবি

মাত্র সাড়ে ৭ একরের উপর দাঁড়িয়ে যুগ যুগ ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেই সাথে জায়গা করে নিয়েছে কোটি বাঙালির প্রাণে। প্রতিষ্ঠার মাত্র ২২ বছরের মাথায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি পরীক্ষায় যখন অকৃতকার্য হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে গুচ্ছে একটি সিট হয় আমার। স্বপ্ন দেখা শুরু করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে। ঢাকার মধ্যে অবস্থান, গনরুম ব্যবস্থা না থাকা, রেগিং মুক্ত ও সেশন জোট না থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার পছন্দ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে।
মুগ্ধ হই ছাঁয়া সুনিবিড় ছোট্ট এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে।
মুগ্ধ হই এখানকার শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের গল্প শুনে।
এখন আর ঢাবি, রাবি, চবিতে চান্স না পাওয়ার ব্যর্থতা আমাকে কষ্ট দেয় না বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সফলতায় আমার নিজের গর্ভ হয়।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা যখন আমার মত একজন শিক্ষার্থীকে মানসিক হতাশায় ফেলেছে ঠিক তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এসেছে মুক্তির দূত হিসেবে।
আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তন
আমি সেই ১৮ হব যে ১৮ এর কথা সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বলেছেন……
❝যার মুখে থাকবে জয়ধ্বনী
যার বুকে থাকবে মাথা তুলবার দূঃসাহস
যার থাকবে না ভয় এবং পদতলে ভাঙ্গতে চাইবে পাথর
যারা অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে এবং মাথা নোয়াবার কথা চিন্তাও করে না ❞

আমি আশা করি সম্মানিত শিক্ষক ও আমাদের সিনিয়র ভাইয়া /আপুরা সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাদেকে সৎ, যোগ্য ও দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
(আমি গর্বিত, আমি জবিয়ান)

মো: মিনহাজুল ইসলাম
বিভাগ: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
ব্যাচ: ১৮ তম আবর্তন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য

পঠিতসর্বশেষ

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon