![]()
নাটোর প্রতিনিধি
আমরা যখন ছোট সেই সময় দেখেছি সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটল চাচার আস্থাভাজন বা খুব কাছের মানুষগুলো যারা ছিলেন এবং তারা কে কি করছেন রাজনীতির মাঠে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। এসব মন্তব্য দিয়ে শুরু করে রোববার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান ও সাবেক তিন বিএনপি নেতার ফিরিস্তি তুলে ধরেন নাটোর জেলা জিয়া মঞ্চের নেতা বুলেট খান। তিনি তার পোস্টে বলেন বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি দলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মালিক হয়েছেন ৩টি তেল পাম্পের। প্রবাদ আছে মানুষের পকেটে টাকা থাকলে সে আর মানুষ থাকে না। তিনি নিজেকে পীর আউলিয়া ভাবেন। সেরকম কথা কাজে মিলে গেছে বিমল সাহেবের ক্ষেত্রে। তিনি নিজেকে আউলিয়া ভাবতে শুরু করেছেন । তিনি দল ও পটল চাচার বিরুদ্ধে গিয়ে দলে থেকে বহিস্কার হন। তারপর থেকে লালপুর বাগাতিপাড়ার বিএনপিকে ধংস করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। কখনো গামছালীগ কখনো পৌর মেয়র কখনো ট্রাক মার্কা নেওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে দলকে নিশ্চিহ্ন করতে সব সময় কাজ করেছেন। এরপর তিনি সিনিয়র আইনজীবী আতিকুল্লাহ বিশ্বাস গ্যাদার কথা উল্লেখ করেন তার পোস্টে । তিনি লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ৩ বারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং নাটোর জজকোটের আইনজীবী। দলের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যত রকম অপকৌশল আছে তার সবটুকু ব্যবহার করে তিনি হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তিনি উল্লেখ করেন রাজশাহী ও নাটোর সহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তুলেছেন বিলাস বহুল বাড়ি। জমি করেছেন বিঘার পর বিঘা। লাখ লাখ টাকা খরচে ছেলে মেয়েকে বেসরকারি মেডিকেলে পড়িয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ আমলে উনি (গ্যাদা) নিজেই সাক্ষা্ৎকার এবং লিখিত ভাবে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন তিনি আর রাজনীতি করবেন না। এরপর পটল সাহেব মারা যাওয়ার পর দলের কমিটি গঠনের সময় কমিটিতে তাকে উপজেলা বিএনপির সদস্য করা হয়। সেটাও তিনি প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে রাজনীতি মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি লিখিতভাবে জানান যে উনি কোন দলের সাথে রাজনীতিতে যুক্ত নন এবং ভবিষ্যতে কোন দলের রাজনৈতিক দলে যোগ দিবেন না। তিনি তার পোস্টে তাইফুল ইসলাম টিপুর কথা উল্লেখ করে বলেন তিনি আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি বিএনপির সহ- দফতর সম্পাদক ছিলেন।
দলের দুঃসময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কয়েকবার জেলও খেটেছেন। পাটি অফিসে বসে তিনি দলের রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের বড় বড় পদ পাইয়ে দিবেন বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু পদ না পেয়ে রাজশাহীর ক্ষুব্ধ অনেক নেতাকর্মী টিপু ভাইকে রাজশাহীতে অবঞ্চিত ঘোষণা করেছেন। সেই ভয়ে টিপু ভাই রাজশাহী যান না। জানা গেছে বিগত আওয়ামীলীগ আমলে উনার শশুরের নাকি বড় বড় ব্যাবসা ছিল এবং টেন্ডার নিয়ে কাজ করেছেন । সেখানে টিপু ভাই আওয়ামীলীগ আমলে টেন্ডার বাগিয়ে নেন দলের ক্ষমতা আর প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় । বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনের ফার্নিচার সরবরাহ টেন্ডার পেয়েছেন। টিপু ভাই এধরনের সরকারি বেসরকারি কাজে কোটি কোটি হাতিয়ে নেন। এরপর তিনি কিছু মানুষের কানে বিষ ঢেলে দেন এবং টাকা খরচ করে কিনে লালপুর বাগাতিপাড়ার মানুষকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করে মরহুম পটল চাচার পরিবার এর বিরুদ্ধে যেতে সকল কৌশল অবলম্বন করে লালপুর বাগাতিপাড়ার বিএনপিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন এই টিপু ভাই। লালপুর বাগাতিপাড়ার বিএনপি@কে ধ্বংস করে নতুন আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এখন দলের থেকে বহিস্কৃদের নিয়ে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছেন। বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে আওয়ামীলীগের বিলমাড়িয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু বিগত দিনে ইমো হ্যাকার পুষতেন। সেই ইমো হ্যাকারদের কাছে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন টিপু ভাই । সেই টাকা দিয়ে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীকে জেলে থেকে ছাড়িয়ে আনছেন। তাদের ভোট কলসে দেওয়ার জন্য যা করার দরকার সেটাই করছেন। বন্ধুরা চিন্তা করুন এই ৩ ব্যক্তি বিগত দিনে দলের সাথে বেইমানি ও প্রতারণা করেছেন। যে বাড়ি (বিএনপির) চাকর বা কর্মচারী হয়ে তারা মালিক সাজতে চাইছেন। তারা দলের কমান্ড মানছেন না। তারা তারেক রহমানকে মানছেনা আসলে উনারা টাকার গরমে নিজেকে দলের মালিক মনে করছেন। এই সব স্বার্থবাদীদের ভোটে পরাজিত করে উপযুক্ত জবাব দিতে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই নেতা ।



মন্তব্য