![]()
মো. শামীম হোসাইন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসনেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক সময় জোটগতভাবে একসঙ্গে রাজনীতি করা বিএনপি ও জামায়াত এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে পিরোজপুর-১ আসনে এই দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনের মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় নির্বাচনী ফলাফল বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এসেছে।
তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার এই আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় প্রয়াত প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর নাম। জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। গত বুধবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নাম ঘোষণা করা হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন,“ইনশাআল্লাহ দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপিকে এই আসন উপহার দিতে পারব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। ভোটের হিসাব, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা এবং পরিবর্তিত জোট রাজনীতির প্রভাব—সব মিলিয়ে এই আসনটি আসন্ন নির্বাচনে জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে।



মন্তব্য