![]()
সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’-এর ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
“আইএমএফ-এর ঋণ ছাড় ও উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বৃদ্ধি”—এই সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদে যুক্তিনির্ভর, তথ্যবহুল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ উপস্থাপনার মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী কলেজের দল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান দখল করে।
বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় ছিলেন আশিকা জান্নাত এবং উপনেতা হিসেবে ছিলেন ফাহিমুল ইসলাম। সংসদ সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাবরিনা সুলতানা, আওলাদ জিসান ও মো. শাহরিয়ার আজিম। তাঁদের যৌক্তিক বিশ্লেষণ, উপস্থাপনা দক্ষতা ও বিষয়বস্তুর গভীরতা বিচারকমণ্ডলী ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
![]()
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দলটি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আইএমএফ-এর ঋণনীতি ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁদের বিশ্লেষণ ছিল বাস্তবভিত্তিক ও গভীর চিন্তায় পরিপূর্ণ।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে ট্রফি, সনদপত্র ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেয়। বিজয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা জানান, এই অর্জন তাঁদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়—তারা সমাজ, রাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক প্রসঙ্গ নিয়েও গভীরভাবে চিন্তা করে।”
ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আওলাদ জিসান বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে প্রতিটি বিতার্কিকের নিষ্ঠা, নিয়মিত অনুশীলন ও মানসিক দৃঢ়তা ছিল মূল শক্তি। কলেজ প্রশাসনের প্রেরণাও আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
দলনেতা আশিকা জান্নাত বলেন, “এই বিজয় সম্ভব হয়েছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের অসামান্য সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। দলনেতা হিসেবে এমন গর্বিত মুহূর্ত উপহার দিতে পারা আমার সৌভাগ্য।”
সংসদ সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী ও ক্লাবের অন্যতম সদস্য সাবরিনা সুলতানা বলেন,
“আজ গর্বের এবং আনন্দের সঙ্গে বলতে হচ্ছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং ক্লাব ইতিহাস গড়েছে। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এটিএন বাংলার ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ প্রতিযোগিতায়। এটি শুধু একটি বিজয় নয়—এটি আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পের প্রতিফলন। আমরা যুক্তির ভাষায় এক মাধুর্য তুলে ধরেছি, শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর সমাধানের পথও দেখিয়েছি।
এই অর্জন আমাদের কলেজের গৌরব বাড়িয়েছে বহুগুণে। আমি কৃতজ্ঞ আমাদের সম্মানিত মডারেটরদের এবং ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের প্রতি, যাঁরা আমাদের সাহস জুগিয়েছেন।
এই বিজয় প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও চেষ্টায় অসম্ভব কিছু নেই। আমরা শুধু ট্রফি নিয়ে ফিরিনি, আমরা ফিরেছি অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে। এই অর্জন আমাদের ভবিষ্যতের পথে শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের যাত্রা এখানেই শেষ নয়—এটা কেবল শুরু। আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একদিন আমাদের কণ্ঠ তুলে ধরব। যুক্তির মাধ্যমে সমাজ বদলে দিতে চাই। এজন্য চাই সকলের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা।”
পুরান ঢাকার শিক্ষা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের এই বিজয় একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



মন্তব্য