শনিবার, ২ মে ২০২৬
 

রাজবাড়ীতে বাকী দিয়ে নিঃস্ব প্রতিবন্ধী যুবক জাকির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৫

---

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের প্রতিবন্ধি যুবক জাকির ভিক্ষা ছেড়ে দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী হতে গিয়ে দোকান বাকি দিয়ে নিঃস্ব এখন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামে জন্ম প্রতিবন্ধী জাকির সরদারের। ২০ বছর আগে আগে দারিদ্র পরিবারে জন্ম প্রতিবন্ধী জাকিরের। রাস্তার পাশে ছোট দোকান করে জাকিরের মা ফাতেমা বেগম ও প্রতিবন্ধী সন্তান জাকিরকে নিয়ে বসবাস করতেন জাকিরের বাবা আমির হোসেন সরদার।জাকিরের বাবা ২০২২ সালের মারা যান।

ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে ব্যবসা করতেন জাকির। বাবা মারা যাওয়ার পর দোকানের হাল ধরেন জাকির। দোকানের লাভ দিয়ে মাকে নিয়ে কোনমতো দিন পার করতেন প্রতিবন্ধী জাকির। সরল বিশ্বাসে বাকি দিতে দিতে  খালি হয়েছে প্রতিবন্ধী জাকিরের দোকান। এখন অনাহারে অর্ধাহারে কাটে জাকিরের দিন। সবার সহযোগিতায় আবার নতুন করে শুরু করতে চান ব্যবসা।

বাড়ি থেকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে দোকানে নির্বাক এসে বসে থাকেন জাকির। মাঝে মাঝে বিক্রেতারা টাকার জন্য কথা শোনায় জাকিরের। মানবিক মানুষের সহায়তার আবার দোকান সাজিয়ে মাকে নিয়ে বাঁচতে  নতুন স্বপ্ন বুনতে চান জাকির।

প্রতিবন্ধি জাকির বলেনে,আমার দোকানে যে পরিমাণ মালামাল উঠায়ছিলাম এখন আমার দোকানে কোন মাল নেই। আমার এলাকার লোকজন বাকি নিয়ে আমাকে টাকা দেয় না। আমি সেই জন্য আমার দোকানের মালামাল তুলতে পারছি না।আমি এই দোকান করে আমার মা এবং আমি কোন রকম খেয়ে পড়ে বেচেঁ আছি।কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি আমার দোকানে কোন মাল নেই। এখন বিক্রি করতে পারছি না আমার খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।আমাকে যদি সরকার থেকে সহয়তায় করে তাহলে আমি আবার ঘুরে দাড়িয়েঁ ব্যবসা করতে পারি। আমার বাবা আমাদের কে রেখে তিন বছর আগে মারা যায়।তার পর থেকে আমাদের সংসার চালাতে আমাকে অনেক কিছু করতে হয়েছে। বাবার সাথে গিয়ে দোকানের ব্যবসা টা একটু বুঝেছিলাম তাই দোকান করে আমি ও আমার মা সংসারের খরচ চালাতে থাকি ।কিন্ত কিছু মানুষ বাকি নিয়ে সেই টাকা সময়  মতো পরিশোধ করে না ।বিভিন্ন কোম্পানির লোক  এসে আমাকে কথা শোনাই।কোম্পানি থেকে বাকী নিয়ে দোকানে মাল তুলে ছিলাম ।সেই টাকা সময় মত পরিশোধ করতে পারিনি।

জাকিরের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার ছেলে জন্ম থেকে প্রতিবন্ধি কিন্তু জাকির ভিক্ষা না করে দোকান দিয়ে আমাদের সংসার চালায়।পরে দেখি জাকিরের দোকানে আগের মতো জিনিস পত্র নাই ।আমি বললাম তোর দোকানের সব কিছু কম কেন জাকির উত্তর দিলো যারা বাকি নিয়েছে তারা বাকির টাকা দেয় না।আমি জাকিরের বললাম আর কাউকে বাকি দিবিনা।এরপর থেকে আমাদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এখন জাকিরের কাছে থেকে যারা বাকি নিয়েছে তারা টাকাটা দিয়ে দিলে ভালো হয়।আমার জাকিরের কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করলে আমাদের দোকান টা ভালো করে চালাতে পারতো এর সাথে আমাদের সংসার টা ভালোভাবে চালাতে পারতাম।

এ বিষয় রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, প্রতিবন্ধি জাকিরের কথা আমি শুনেছি তার দোকান বাকি নিয়ে টাকা দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং জাকির যেন কিছু অনুদান পায় তার জন্য একটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

যুগের কন্ঠস্বর/এইচএসএস  

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon