বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
 

পাথরঘাটায় কিশোর-কিশোরী পালিয়ে গিয়ে বিয়ে!অতঃপর অপহরণ মামলায় আটক ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

---

পাথরঘাটা প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে প্রেমের সম্পর্কে কিশোর -কিশোরী পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় বিয়ে করে।অতঃপর অপহরণ মামলায়  তিনজন কে আটক করেছে পাথরঘাটা থানা পুলিশ।  আটক হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করছেন পাথরঘাটা ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

মামলার সূত্র থেকে জানা যায়,

কিশোরীর নাম রাবেয়া আক্তার(১৩) কিশোর ছেলের নাম  মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (২০) ছেলের  পিতা নাম মোঃ ইউসুফ মিয়া, ছেলের ও মেয়ের বাসা  ৪নং ওয়ার্ড পৌরসভা।  একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মেয়ের বাবা  দুবাই প্রবাসী  রফিকুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের ভিতরে সুসম্পর্ক বিদ্যমান তারই সূত্র ধরে ছেলে ও মেয়ের  মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শেষ পরিণয় পালিয়ে  বিবাহ। মেয়ের পরিবার মেনে না নেওয়ায় মেয়েকে নিয়ে, ছেলে ঢাকায় গিয়ে বিবাহ করে । মেয়ের বিয়ের বয়স ও খুঁজে না পাওয়ায়।  মেয়ের মা সুমাইয়া বেগম (৩৬)   বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। পাথরঘাটা থানা পুলিশ  তিন দিনের চেষ্টায় মেয়েকে উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে। এর আগে ছেলের বাবা মো.ইউসুফ কে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

মেয়ের মা সুমাইয়া মামলায় বলেন, রাবেয়া  আমার বড় মেয়ে। মেয়েসহ আমরা সংযুক্ত থানার আরব আমিরাতের আবুদাবি শহরে বসবাস করি। আমি গত ০৮/১২/২০২৪ তারিখ আমার বাবার অসুস্থতার খবর শুনে আমার মেয়েসহ দেশে বাবার বাড়িতে আসি।

পরবর্তীতে আমার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত কালীবাড়ি এলাকায়  রহিমা খাতুন নামে  হাফেজিয়া মহিলা মাদ্রাসার সার্বিক দেখাশুনার উদ্দেশ্যে সেখানে যাই। দেশে থাকাকালীন সময় মেয়ে পাথরঘাটা আদর্শ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন থাকা কালীন স্কুলে আসা যাওয়ার সময়  ইয়াছিন আরাফত প্রায়ই আমার মেয়েকে উত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন রকমের অনৈতিক প্রস্তাব দিত।

আমার মেয়ে রাবেয়া আক্তার রাজি না থাকায় বিষয়টি  বাড়িতে আসিয়া আমার কাছে জানায়, আমি ইয়াছিনের বাবা- মা কে  ঘটনা জানাই। ঘটনার বিস্তারিত জেনেও   রকমের কর্নপাত না করে  ছেলের এহেনও কার্যে সহায়তা করে।  ২০ ডিসেম্বর  দুপুর অনুমান সারে ১২টার সময় আমি আমার মাদ্রাসার কাজে ব্যস্ত থাকায় আমার মেয়ে রাবেয়া আক্তার ঘটনাস্থল রহিমা খাতুন হাফেজিয়া মহিলা মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তায় গেলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা  ইয়াছিন আরাফাত  সাথে থাকা  রাফি ও রিফাতের  সহায়তায় আমার মেয়ে রাবেয়া আক্তারকে জোর পূর্বক মুখ চেপে  ধরে মোটরসাইকেলে বসাইয়া অপহরন করে  নিয়ে  যায়ন। যাওয়ার সময় আমার মেয়ে তাহার মুখে ইয়াছিনের  হাত সরাইয়া ডাক চিৎকার দিলে তাহার চিৎকার শুনিয়া আমিসহ কতিপয় সাক্ষীরা ঘটনাস্থল পৌঁছাইলে আসামীরা আমার মেয়েকে নিয়া অতিদ্রুত মোটর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে অভিযুক্ত  ইয়াসিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া, (ইয়াসিন ও রাবেয়ার) প্রেমের সম্পর্কের ঘটনার সম্পূর্ণই জানেন এতে  তাদের  মত ছিল। তারা বাহিরের অন্য কোন দুষ্ট লোকের কু- পরামর্শে এই অপরনের মামলা সাজিয়েছে। আসলে এই অপহরণের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো

এদিকে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান থানায়  ১৩ বছরের একটি মেয়ের অপহরণের মামলা হয়।আমি তিনদিনের প্রচেষ্টায় আমার ফোর্স দিয়ে  ঢাকা থেকে  অপহরণকৃত  মেয়েকে উদ্ধার করি।

মন্তব্য

সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর

Developed By: Dotsilicon